মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩০ অপরাহ্ন

রিকশা চোর থেকে শত কোটি টাকার মালিক কাউন্সিলর হাসু

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৯৯

তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সেই অর্থে জনতার নির্বাচিত নেতা বা জননেতা। তা সত্ত্বেও জোর করে জনগণের মুল্লুক দখল করার মারাত্মক প্রবণতা রয়েছে তার। রাজধানীর আদাবর-শ্যামলী এলাকার অতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারদলীয় কর্মী-নেতা- এমন অনেকের প্লট, বাড়ি-ফ্ল্যাট, জমি জোর করে দখল করেছেন তিনি অন্যায়ভাবে। এমন অন্তত ৫০টি অভিযোগ রয়েছে। এসব ছাড়াও তার অবৈধ দখলের তালিকায় রয়েছে সরকারের খাস জমি, ফুটপাত এমনকি সড়ক পর্যন্ত।

এসব নিয়ে প্রতিবাদ করতে পর্যন্ত কেউ সাহস পান না। কারণ সে ক্ষেত্রে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে ভুক্তভোগীদের এলাকাছাড়া করা হয়। শুধু তাই নয়। চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতাও নাকি তিনি। ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলরের নাম আবুল হাসেম হাসু। অভিযোগ রয়েছে, তার এহেন অপকর্মের দোসর তারই ভাই আবুল কাসেম কাসু। হাসু-কাসুর অত্যাচার আর দখলবাজির দৌরাত্ম্যে আদাবর-শ্যামলী এলাকার অনেক মানুষই এখন সর্বশান্ত বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, হাসু-কাসুর বাবা এক সময় গ্রাম থেকে আখ এনে রাজধানীতে ফেরি করতেন। তখন তাদের বসবাস ছিল আগারগাঁও বস্তিতে। এর পর এক সময় রিকশা চুরি করতে শুরু করেন হাসু-কাসু। নব্বইয়ের দশকে আগারগাঁও বস্তিতে তারা ছিলেন রিকশা চোরদের সর্দার, এমন জনশ্রুতি আছে। এ বস্তিতে তখন দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের যাতায়াত ছিল বেশ। সেই সুবাদে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সঙ্গে হাসু-কাসুর সখ্য গড়ে ওঠে। এই সখ্যতাকে পুঁজি করেই ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন দুই ভাই। পরে অস্ত্রবাজ বাহিনী গড়ে তুলে হাসু-কাসুরা টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখনো বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনীতিবিদ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই যুগে অন্তত শতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করেছেন হাসু-কাসু। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেসব সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। কেবল জমি দখলই নয়, নতুন ভবন নির্মাণকারীর কাছ থেকে চাঁদা, দোকান ও অফিস থেকে মাসোহারা, মাদক কারবারসহ সব অপকর্ম তাদের ছত্রছায়াতেই হয়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা, জমি ও বাড়ি দখল, খুন, ডাকাতি ও লুটপাটের অভিযোগে দলটি থেকে তাকে এক সময় বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তী সময়ে ওয়ার্ড কমিটির সদস্যপদ নিয়ে তিনি ফের দলে ফেরেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর আদাবরের ১৪৫/৩ প্লটটির মালিক দেলোয়ার হোসেন। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সবকিছু বিকিয়ে কিনে ছিলেন প্লটটি। সেখানে এখন দোতলা ভবন। সেটি দখল করে নিয়েছেন হাসু-কাসু। নিজের সম্পত্তি ফিরে পেতে দেলোয়ার হোসেন ২০১২ সাল থেকে দ্বারে দ্বারে কম ধরনা দেননি। জমি ফিরে পেতে দেখা করেছিলেন ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। কষ্টার্জিত টাকায় কেনা জমি হাতছাড়া হয়েছে, আর হাতে আসেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15