শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও আসামির দাবি, ‘নুসরাত আত্মহত্যা করেছে’

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৭৩

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আফসার উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ। তার কাছে প্রমাণ আছে যে, নুসরাত আত্মহত্যা করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণার পর আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রভাষক আফসার চিৎকার করে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলতে থাকেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৮ মিনিটে এই রায় পড়ে শোনান ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল। তারা সবাই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন প্রিজন ভ্যান থেকে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়ে আমি বেরিয়ে আসব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াসউদ্দিন নান্নু বলেন, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এটি সাজানো রায়। এই রায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উচ্চ আদালতে এটা টিকবে না। সবাই খালাস পাবে।’

এর আগে আদালতের এজলাসে রায় শোনার পর আসামিরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। কেউ কেউ কাঁদতে শুরু করেন।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। আর মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পিবিআইয়ের লাগে ৩৩ কার্যদিবস।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15