বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২১ অপরাহ্ন

মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে কাজ করবে ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৬১
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ১৮তম জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর বাকু কংগ্রেস সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইরানের প্রেসিডেন্ট এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, মুসলিম উম্মাহর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন দুই শীর্ষনেতা।

আলোচনায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ইরানের প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন সরকার প্রধান।

এসময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমানরের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে ইরান কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট রুহানি।

এর আগে মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপিত হয়। এসময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে প্রয়োজনীয় সব কিছু করার অঙ্গীকার করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ

পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান বিষয়ে মাহাথির বলেছেন, উনি (মাহাথির মোহাম্মদ) এবং আসিয়ান সদস্যরা যেটা করা প্রয়োজন তিনি সেটা করে যাবেন। তিনি (মাহাথির) দৃঢ়ভাবে এটা অনুভব করে যে ওইখানে গণহত্যা হয়েছে এবং এর বিচার হওয়া দরকার।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বলেছেন- রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন হয়েছে। সুতরাং, মালয়েশিয়ার একটি ফিল্ড হসপিটাল রয়েছে, কক্সবাজারে ওটার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া সম্মেলনের প্লেনারি সেশনে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাকুর কংগ্রেস সেন্টারে আয়োজিত এ সেশনের শিরোনাম ছিল ‘সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে বানদুং নীতিমালা অনুসরণ’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছি। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে পিছিয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। সেজন্য আমরা এই সংকটের সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার কথা বারবার বলে আসছি। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে স্বেচ্ছায় আপনভূমি রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র সমাধান।

মিয়ানমারে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটকে রাজনৈতিক সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেজন্য এই সমস্যার সমাধানও মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে।_

প্রসঙ্গত, ১২০টি উন্নয়নশীল দেশের জোট ন্যাম জাতিসংঘের পর সবচেয়ে বড় ফোরাম হিসেবে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। রোববার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15