বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

৪ প্রতিবন্ধী কন্যা নিয়ে অসহায় দিনমজুর পিতা

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৭৪

৩০ বছরের মিনারা পারভিন, ২০ বছরের বিউটি আক্তার, ১৫ বছরের তাপসী আর ১১ বছরের শাবনূর। ৪ সহোদর বোন। তারা সকলেই শারিরীক প্রতিবন্ধী। তাদের হাত-পা চিকন হয়ে অবশ হয়ে গেছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নড়াচড়াও করতে পারে না। পিতা দিনমজুর ইব্রাহিম (৭০), মা শামছুন্নাহার পেশায় গৃহিনী। ভিটার ৮ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছুই নেই ইব্রাহিমের।

অসহায় এই দিনমজুর পিতার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই গ্রামের চৌরঙ্গি পাড়ায়।

এলাকাবাসী ও অসহায় পরিবার জানায়, ইব্রাহিম ও শামছুন্নাহারের ঘরে ৩০ বছর আগে মিনারা পারভিন নামে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

কন্যা সন্তানের যখন বসার সময় তখন তারা লক্ষ্য করেন তাদের ফুটফুটে কন্যা সন্তানের হাত-পা চিকন হয়ে অবশ হয়ে যাচ্ছে। সংসারে দারিদ্র্যতা থাকলেও কন্যা সন্তানের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব ঢেলে দেন। বয়স যত বাড়তে থাকে, ততই অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক সময় সে শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। এরপর জন্ম নেয়া বিউটি আক্তার (২০), তাপসী (১৫) ও শাবনূর (১১) একইভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়।

সরজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘরবাড়ির বারান্দায় প্রতিবন্ধী মেয়েরা বসে আছে। সারাদিন কাটে তাদের ওই বারান্দাতেই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া থেকে শুরু করে সব কাজ চলে মায়ের সাহায্য নিয়ে।

৩০ বছর ধরে বারান্দায় কাটানো বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী মিনারা পারভিন বলেন, আমরা ৪ বোন একসঙ্গে বারান্দায় বসে থাকি। কারও সাহায্য ছাড়া আমরা নড়াচড়া করতে পারি না। আব্বা-আম্মা এতদিন করেছেন। তাদেরও বয়স হয়েছে। আগের মতো শক্তি তাদের শরীরে এখন নেই। আব্বা-আম্মা মারা গেলে আমাদেরকে কে দেখে রাখবে। এ কথা বলতে বলতে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবন্ধী মেয়ে বিউটি আকতার বলেন, ২০ বছর ধরে আমার দিন কাটে বারান্দাতেই। দিনকে মনে হয় কত লম্বা। চিন্তা করি রাত কখন হবে। রাত হলে ভাবি দিনের আলো কখন আসবে। প্রতিবন্ধী বোন তাপসী (১৫) ও শাবনুর (১১) দুই বড় বোনের কথা শুনে অসহায়ভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।

মা শামছুন্নাহার বলেন, ৪ প্রতিবন্ধী মেয়ে রেখে কোথাও কাজ করার জন্য যেতে পারি না। স্বামীর উপার্জন ও সরকারি ভাতার টাকায় তাদের জীবন চলে খেয়ে, না খেয়ে।
পাশের বাড়ির আইয়ুব আলী জানান, জন্মের পর থেকেই ৪ বোন প্রতিবন্ধী। তাদের দেখলে আমারও মায়া লাগে। আমরাও গরীব তাদেরকে কোন সহযোগিতা করতে পারি না।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নাজমুল হোসেন বলেন, ৪ প্রতিবন্ধীর জন্য ৩টি কার্ড  দেয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফ সিদ্দিক বলেন, আমি তাদের বাড়িতে যাবো। তারা ৩টি প্রতিবন্ধী কার্ডের সুবিধা পায়। তাদেরকে আরও কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও খোঁজ-খবর নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15