শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০, ১১:০০ অপরাহ্ন

ফেসবুক লাইভে “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি::
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০
  • ১১

উখিয়া-টেকনাফের শিক্ষিত সমাজের অভূতপূর্ব প্লাটফর্ম “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপটি আজ ২৬ জুন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ফেইসবুক লাইভের এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়। দেশ এবং দেশের বাহিরে থেকে সহস্রাধিক গ্রেজুয়েট সদস্য লাইভটি প্রত্যক্ষ করেছেন। সম্প্রতি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ, মাদক অধ্যুষিত উখিয়া টেকনাফের শিক্ষিত সমাজের দায়িত্ব কর্তব্য, গ্রুপটির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও ঘোষণাসহ সমকালীন আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় উক্ত লাইভে।

রবিউল হাসান হিমুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ঘন্টাব্যাপী এই লাইভে আয়োজকদের মধ্যে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল কবির।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী, সাংবাদ কর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতি দলের নেতাকর্মী সহ আরো যারা এ মহাসংকটে দেশের সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর জন্য ফ্রন্ট লাইনে কাজ করছেন। তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং কাজ করতে গিয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপের পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং রূহের মাগফেরাত কামনা করছি।

লাইভ আলোচনায় তিনি আরও জানান- আপনারা আমার সাথে একমত হবেন যে, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের দুই থানা আমাদের প্রিয় উখিয়া-টেকনাফ আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে চরমভাবে অবহেলিত। ২০১৭ সালে ছুটিতে দেশে এসে একদিন দেখি আমার গ্রামের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রটি মাদকাসক্ত, এ দৃশ্য দেখে আমার মন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আমি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিই এমন একটা কিছু করতে হবে যেন আমাদের প্রিয় উখিয়া-টেকনাফের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানো যায়। এরপর থেকে আমি আমার অগ্রজ-অনুজ, বন্ধু-বান্ধব অনেকের সাথে কথা বলতে থাকি, প্রায় সবাই আমাকে বললো উখিয়া-টেকনাফ মাদকের কারখানা! এখানে অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী, যুবকদের বৃহদাংশ মাদকাসক্ত বা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রায় সবাই হতাশ, কারো মুখে হাসি নেই! কেউ এদের বাঁচানোর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আসছে না! এর মধ্যে আবার ১০/১২ লক্ষ রোহিংগাদের আশ্রয় দিতে হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি নিধন করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে, পাশাপাশি উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগৌষ্ঠী চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরে গেছে। প্রায় একবছর অনেকের সাথে কথা বলে, অনেক ভেবে আমি নিশ্চিত হলাম যে, শিক্ষিত শ্রেণীর নব জাগরণ ছাড়া উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তাই উখিয়া-টেকনাফের সকল গ্রাজুয়েটদের একটি প্লাটফর্মে আনার জন্য গত ২৪ মে ২০১৮ সালে “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপটি গঠন করি। এরপর অগ্রজ-অনুজ, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত-অপরিচিত সবার কাছে সহযোগিতা চাইতে থাকি। তাঁদের অনেকের সহযোগিতায় “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপ আজ প্রায় ২০০০ গ্রাজুয়েটদের একটি পরিবার। এটি এখন অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস। ইতিমধ্যে সকল স্তরের ব্যক্তিবর্গ গ্রুপটির ভুয়ূসী প্রশংসা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

লাইভে অংশ নিয়ে প্রফেসর নুরুল আমিন জানান- আপনারা অনেকে ঢাকা বারডেম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর ইব্রাহিমেরে গল্পটি শুনে থাকবেন। গল্পটি আমি বলতে চাই- উনি তখন ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন। তার সামনেই একজন ৯ বছরের বচ্চা ডায়াবেটিকস এ মারা গেলেন; উনার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়লো কিন্তু কিছুই করতে পারলেন না, চিকিৎসা নাই। ঐ মুহর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন – জীবন দিয়ে হলেও এর একটি প্রতিকার করবেন। যার ফলশ্রুতিতে তৈরী হয়েছে বারডেম হাসপাতাল যেখানে আজ লক্ষ লক্ষ ডায়াবেটিকস রুগী সেবা নিয়ে ভালো হচ্ছেন। ঠিক এমনই একটি বেদনা থেকে গত ২৪ মে ২০১৮ সালে “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপটি তৈরী করা হয়েছে। আমি আশা করি সকল মহৎ হৃদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই গ্রুপটিও যুগ যুগ ধরে উখিয়া-টেকনাফ ততা সমগ্র বাংলাদেশের গুনগত পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আমার বক্তব্য আর দীর্ঘ না করে আমি ঘোষণা করছি-
“গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি গ্রুপ। এ গ্রুপের মূল লক্ষ্য হলো- দেশের তরুণ গ্রাজুয়েটদের উদ্ভুদ্ধ করে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উচ্চতর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নৈতিকতার সংস্কার আবশ্যক বলে আমরা মনে করি। তাই “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপ শিক্ষা,স্বাস্থ্য,নৈতিকতা নিয়ে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর।

গ্রুপের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং আপনারা যারা শুনছেন, আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। এ স্বপ্ন সত্যি করার জন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আমাদের প্রাণের “গ্রাজুয়েট, উখিয়া-টেকনাফ” গ্রুপ বেঁচে থাকুক অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায়। শেষ করার আগে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি যেন আমাদের এই মহামারী থেকে রক্ষা করেন, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাচ, ওয়াল জুনুন, ওয়াল জুযাম, ওয়ামিন সায়্যিইল আসকাম”— সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

লাইভে আলোচনায় অন্যান্যদের মাঝে আরও অংশগ্রহণ করেন- আব্দুল জলিল, রফিক উদ্দিন, মাহবুব নেওয়াজ মুন্না ও রোমানা ইয়াসমিন পুতুল প্রমূখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15