বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

যেখানেই মাদক, সেখানেই হাজির ওসি প্রদীপ!

গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ ::
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
  • ১১

দেশবাসীকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার জন্য সরকার মাদকবিরোধী চলমান অভিযানকে আরো বেগবান করার জন্য বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সেই ধারবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রধান মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ দেশের বিভিন্ন থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন আপনার কর্মরত এলাকায় হয় মাদক থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে।

এই শ্লোগানকে বুকে নিয়ে স্ব-স্ব থানার অন্তর্গত এলাকা গুলোকে মাদক মুক্ত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য মাদক পাচার প্রতিরোধ ও মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মুল করতে চলমান অভিযানকে আরো বেগবান করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মরণনেশা ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসাবে পরিচিত মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ উপজেলাকে মাদক মুক্ত করার জন্য দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে শুরু করে সাঁড়াশী অভিযান।

ওই সব অভিযানে লাখ লাখ ইয়াবাসহ আটক হয় অনেক অপরাধী। তবুও ইয়াবা পাচার অব্যাহত থেকে যায়। কারণ মাদক ব্যবসায় জড়িত বড় মাপের ভদ্রবেশী অপরাধীরা আড়ালে থেকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই অভিযানকে আরো জোরদার করার জন্য বিগত ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে টেকনাফ মডেল থানায় যোগদান করে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অত্র উপজেলা থেকে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মুল করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করে কঠোর অভিযান পরিচালনা শুরু করে। ওই অভিযানে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় বেশ কয়েকজন মাদক কারবারী।

এরপর নিজের জীবন বাঁচাতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে তালিকাভুক্ত অন্তত ১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ী।

থানা সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান ২০২০ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা মাদক পাচার প্রতিরোধ ও কারবারীদের নির্মুল করতে দিনরাত কঠোর ভূমিকা পালন করে মাত্র ২২ মাসের ব্যবধানে পুলিশের সাথে ‘গোলাগুলি’তে প্রাণে মারা যায় ১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত। এদের মধ্যে ৩৭ জন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা।

মাদক বিরোধী এ সব অভিযানের ঘটনাস্থল থেকে ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবা, ৪৩১টি দেশী-বিদেশী অস্ত্র, ১৪০৩ রাউন্ড তাজা গুলি, ৭টি ম্যাগজিন, ১৯টি ধারালো কিরিচ, চোলাই ও বিদেশী মদ ৪০৩ লিটার, ৫৯ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ মাদক বিক্রির নগদ টাকা, ১৭ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করার এবং ১৯৬৮ জন অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িত আটক আসামীদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৯২৪টি মামলা দায়ের করা হয়।

মাদক পাচারে ব্যবহার হয়া মোটর সাইকেল, সিএনজি, যাত্রীবাহী ১৮টি গাড়ী জব্দ করা হয়।

অপরদিকে এই ২২ মাসের ব্যবধানে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যদরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করার সময় মাদক কারবারে জড়িত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে ‘গোলাগুলি’র ঘটনায় ৭৪ জন অপরাধী নিহত হয়েছে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এক সময় টেকনাফের মানুষের ঘুম ভাঙতে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা বস্তাভর্তি ইয়াবার গন্ধে। চলার পথে মানুষের শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়তো ইয়াবার গন্ধ! গত দেড়বছর ধরে আমাদের পুলিশ এবং ওই উপজেলায় কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে টেকনাফ উপজেলা থেকে ইয়াবার আগ্রাসন প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে।

তিনি বলেন, ওই উপজেলার মানুষকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার জন্য পুলিশের অভিযানকে আরো কঠোর ভাবে পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। মাদক কারবারীদের জন্য ওসি প্রদীপের নতুন বার্তা মাদক কারবারে জড়িত অপরাধীদের সন্ধান যেখানে পাবো সেখানে চলবে ওসি প্রদীপের অভিযান, হয় আমি থাকবো, না হয় মাদক কারবারী থাকবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দৃর্শ্যেঘেরা পর্যটন নগরী টেকনাফকে মাদক মুক্ত করার জন্য স্থানীয় জনগনেের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15