বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

অতি: বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে রাশেদ হত্যার ঘটনা তদন্তে কমিটি পূর্ণগঠন

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী ::
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০
  • ১৬

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ (বিএ-৬৯৩১) হত্যার ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন-যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান’কে আহবায়ক করে কমিটি পূর্ণগঠন করা হয়েছে। রোববার ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ কমিটি পূর্ণগঠন করা হয়। পূর্ণগঠিত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে থাকবেন, যাকে মনোনীত করবেন ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি’র মনোনীত একজন প্রতিনিধি। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহা. শাজাহান আলি এই তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন, যাকে পূর্বের তদন্ত কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছিলো।

পুনর্গঠিত এই কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামত দেবেন।

গত ৩১ আগস্ট রাত্রে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ (৩৬) তাঁর কক্সবাজারমূখী প্রাইভেট কারটি নিয়ে টেকনাফের বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের চেকপোস্টে পৌঁছালে গাড়িটি পুলিশ থামিয় দেয়। তখন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ উপর দিকে তার হাততুলে তার কার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তাঁকে তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী গুলি করে হত্যা করে বলে সেনা সদর থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদকে হাসপাতালে নিতে পুলিশ দীর্ঘ দুই ঘণ্টা দেরি করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবার পুলিশের গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এ নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় ১ আগস্ট ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। যে কমিটি বিলুপ্ত করে ২ আগস্ট যুগ্মসচিব পদমর্যাদার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হলো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রোববার ২ আগস্ট এ ঘটনা সম্পর্কে ঢাকার তাঁর বাসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি নিয়ে যেহেতু তদন্ত চলছে, সেহেতু তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ হত্যার ঘটনা বিস্তারিত জানতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম কক্সবাজার এসেছেন। রোববার ২ আগস্ট বিকেলে তিনি কক্সবাজার পৌঁছেন। এর আগে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম এন্ড অপারেনন্স) মো. জাকির হোসেনও কক্সবাজার আসেন।

এ ঘটনায় পুলিশের টেকনাফের বাহারছরা তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী সহ ২০ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। রোববার ২ আগস্ট সকালে তাদেরকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। একইসাথে বাহারছরা তদন্ত কেন্দ্রে কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ এর মৃতদেহ কক্সবাজার থেকে যশোরে ২ আগস্ট নেওয়া হলে সেখানে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। মেজর সিনহা মো: রাশেদকে জানাজার পূর্বে যশোর সেনানিবাসের একটি চৌকস সেনদল সামরিক মর্যাদা প্রদান করে।

পুলিশের গুলিতে খুন হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ যশোরের বীর হেমায়েত সড়কের বাসিন্দা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এরশাদ খানের সন্তান। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ ৫০ তম বিএমএ লং কোর্সের একজন কর্মকর্তা হিসাবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশের এলিট ফোর্স এসএসফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) এ একজন বাচাইকৃত চৌকস সেনা অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে মেজর পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিনহা মো: রাশেদ সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ঢাকাস্থ স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ফ্লিম এন্ড মিডিয়া বিভাগ থেকে জাস্ট গো নামক একটি কোম্পানির পক্ষে ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়ার জন্য প্রামাণ্য তথ্য চিত্র নির্মানের লক্ষ্যে গত ৩ জুলাই থেকে তিনি ও আরো ৪ জন কক্সবাজারের হিমছড়ি নিলীমা রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। গত ৫ জুলাই তারা কক্সবাজার পৌরসভার মাধ্যমে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হতে করোনার নমুনা টেস্ট করান। টেস্টে তাদের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15