শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে আরো এক ওসি প্রদীপ!

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ৩০

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের পর এবার ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মহা পুলিশ পরিদর্শকের কাছে দায়ের করা পীরগঞ্জের সমাজকর্মী নাহিদ পারভীন রিপার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পীরগঞ্জে সরেজমিনে এসে তদন্ত করছেন রংপুর ডিআইজি অফিসের ইন্সপেক্টর (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস) তরিকুল ইসলাম তরিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা ও মামলা গ্রহণে মোটা অংকের অর্থ আদায়, টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেয়া এবং বিনাকারণে মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রদীপের বিরুদ্ধে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থানা চত্বরে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অভিযোগকারী ও সাধারণ মানুষের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। এদিকে ওসির বিরুদ্ধে শুকুর উদ্দীন কালু নামে আরেক ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগেরও তদন্ত করছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখা রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের জয়িতা নাহিদ পারভিন রিপার দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও গ্রামের সোবাহানের কন্যা লিজা আখতার (৩০) তার স্বামী মোহাম্মদ আলী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ওসি প্রদীপ চন্দ্র রায় নির্যাতিতা ওই নারীর অভিযোগ মামলা হিসেবে রুজু না করে কিংবা কোনো প্রতিকার না দিয়েই তাকে দিনের পর দিন হয়রানি করেন। এ অবস্থায় গত ১৬ মার্চ দুপুরে নির্যাতিতা লিজার সঙ্গে থানায় যান স্থানীয় সমাজকর্মী ও জয়িতা নাহিদ পারভীন রিপা। এ ঘটনায় থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় ওই সমাজকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তাকে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেন। এ অবস্থায় নির্যাতিতা লিজা আখতার ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে পিতার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এ ঘটনায় ওসি প্রদীপ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ডিআইজি, আইজিপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন নাহিদ পারভিন রিপা।

এদিকে উপজেলার করনাই গ্রামের শুকুর উদ্দিন কালু গত ১৯ মে আইজিপিসহ পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে ওসি প্রদীপ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, ১২ মে রাতে কালুসহ তার প্রতিবেশীদের ভাঙচুর করে লুটপাট ও কালুকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনা ওসি প্রদীপকে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেননি। পরে ৯৯৯-এ ফোন করার পর পীরগঞ্জ থানা থেকে গাড়ি এসে তাকে উদ্ধার করলেও প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওসি তার মামলা গ্রহণ করেননি; বরং প্রতিপক্ষের হয়ে তার (কালু) বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলার দেওয়ার হুমকি দেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারসের নির্দেশে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ১৮ আগস্ট বিষয়টি তদন্তের জন্য অভিযোগকারী ও তাঁর সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওসি প্রদীপ কুমার রায় পীরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে স্থানীয় লোকজনকে অকারণে হয়রানি করে আসছেন। জমিজমা বা পারিবারিক কলহে কিংবা স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে গেলে বেশির ভাগ মানুষকে আইনি সেবা না দিয়ে হয়রানি করেন। এ কারণে অনেকেই সুষ্ঠু বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাদক-জুয়ার বিষয়ে তথ্যদাতাকেই নানাভাবে নাজেহাল করেন ওসি প্রদীপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ওসি প্রদীপ কুমার রায় যোগদানের পর বেশিরভাগ মানুষ পীরগঞ্জ থানায় আইনি সেবা নিতে এসে আইনি সেবার বদলে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে ওসি প্রদীপ কুমার রায় তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্তের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তদন্ত হচ্ছে হোক, তাতে কী আসে-যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15