শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

লিয়াকতের ওপর দোষ চাপাতে চেয়েছিলেন ওসি প্রদীপ

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৭

মেজর (অব.) সিনহাকে গুলি করে হত্যার ঘটনার বিবরণ পেতে ওই মামলায় রিমান্ডে থাকা বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে মেরিন ড্রাইভের ঘটনাস্থল বাহারছড়ার শামলাপুর চেকপোস্টে নিয়েছে র‌্যাব। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সিনহা হত্যায় গুলি করার ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা শুনতেই তাদের ঘটনাস্থলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ওসি প্রদীপ কুমার জিজ্ঞাসাবাদে সিনহা হত্যাকাণ্ডের দায় চাপাতে চেয়েছেন লিয়াকতের ওপর। তবে ঘটনার আগে ও পরে লিয়াকতের সঙ্গে তার ফোনকলের অডিও রেকর্ড শোনানো হলে চুপসে যান তিনি।

পরে লিয়াকত ও প্রদীপকে সামনাসামনি এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন দুজনই ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। সেসব বিষয় প্রত্যক্ষ করাতে সিনহা হত্যা মামলার তিন শীর্ষ আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের রিমান্ডের চতুর্থ দিনে তাদের ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তদন্ত কর্মকর্তা।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার বলেছেন, মেজর (অব.) সিনহাহে গুলি করার ঘটনা দুই মিনিটের মধ্যেই ঘটে। সেই দুই মিনিটের মধ্যে কী ঘটেছিল, কেন তাকে গুলি করা হলো- সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

অভিযুক্তদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল মেজর (অব.) সিনহা হত্যায় কে কতটুকু দায়ী- তা নির্ণয়ে প্রধান অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে আলামতগুলো মিলিয়ে দেখতে এ প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে বলে দাবি র‌্যাবের।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার বলেন, আসামিদের সঙ্গে কথা বলে এটা নিশ্চিত, সিনহা হত্যা ১-২ মিনিটে সংগঠিত হয়েছে। এ অল্প সময়ে এমন কী ঘটেছিল তা জানতে এবং এ সময়ে গাড়ি চেক করা, পরিচয় জানতে চাওয়া, কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে গুলিটা হয়েছিল তা বের করতে প্রতিটা সেকেন্ডকে বিশ্লেষণ করছি আমরা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, আইও বিষয়টি সম্পর্কে ঋদ্ধ হতে আসামিদের দেখানো মতে সবকিছু খুঁটিয়ে দেখেছেন। ১-২ মিনিটে ফায়ারিং পর্যন্ত চলে যাওয়ার ঘটনা কোন প্রেক্ষিতে হয়েছে, তা বুঝতে চেকপোস্ট থেকে চেকিং পয়েন্ট, ব্যারিকেট থেকে গাড়ির দূরত্ব, প্রত্যক্ষদর্শীদের দূরত্ব- সবকিছু পরিমাপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইও তার একটি কনসেপ্ট ডেভেলপ করবেন। যেহেতু এটি সেনসিটিভ বিষয়, তাই হুট করে কিছু বলা যাবে না।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা ডিটেইলসে যাচ্ছি, কেন ফায়ারিং হয়েছে তা তুলে আনার চেষ্টা করছি। আসামি লিয়াকতের কথা যদি সত্যি হয়, তবে কী ঘটনায় সিনহা পিস্তল তাক করলেন, এবং লিয়াকত গুলি করলেন- সব বিষয় বের করার চেষ্টা করছি।

তবে অনেক কথা তদন্তের স্বার্থে বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15