শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামেও ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১০

দুই সহোদরকে অপহরণ করে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে দুই ভাইকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুই সহোদরের বোন রিনাত সুলতানা শাহীন বাদী হয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমির আদালতে মামলাটি করেন। পরে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপিকে (আনোয়ারা সার্কেল) আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নিহত আমানুল ইসলাম ফারুক ও আজাদুল ইসলাম আজাদ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার আমিনুল হকের ছেলে।

মামলার আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইফতেখারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাজাহারুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম ও আমজাদ হোসেন। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী রিনাত সুলতানা শাহীন বলেন, তার বড় ভাই হারুনের মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান ছিল। লকডাউন শুরুর পর দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি পেয়ারার চাষ শুরু করেন। ছোট ভাই আজাদ বিদেশে থাকতেন। গত রমজানের সময় তিনি দেশে ফেরেন।

মামলার এজহারে শাহীন উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই প্রথমে বাহরাইন ফেরত ছোট ভাই আজাদ নিখোঁজ হয়। এর দুদিন পর ১৫ জুলাই আজাদের বড় ভাই ফারুককে চন্দনাইশ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজের সামনের ভাড়া বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় চন্দনাইশ থানা পুলিশ। ওদিন সন্ধ্যায় ফারুককে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মাথায় নিহতদের মায়ের মোবাইলে একটি নম্বর থেকে ফোন করে অজ্ঞাত পরিচয় একজন বলেন, ‘তোর দুই ছেলে আমাদের কাছে আছে। দুই ছেলেকে জীবিত ফেরত চাইলে রাতের মধ্যে আমাদের ৮ লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে সকালে ছেলের লাশ পাবি।’ এ কথা বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর পরদিন ১৬ জুলাই সকাল ৮টা নাগাদ টেকনাফ থানা থেকে তাদের মায়ের নম্বরে ফোন করে জানানো হয়, দুই ভাই আজাদ ও ফারুক টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। লাশ কক্সবাজার সরকারি হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। মর্গ থেকে দুই ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করে গ্রামে নিয়ে কবর দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান বলেন, মূলত মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই সহোদরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুই সহোদরের বোন রিনাত সুলতানা শাহীন চিফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে সেটি বিচারক গ্রহণ করেন এবং আনোয়ারা সার্কেলের এডিশনাল এসপিকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15