সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২০ অপরাহ্ন

মিয়ানমারের ‍‍‘মিথ্যাচার‍‍’ থামাতে বাংলাদেশের কড়া বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৫৪
পুরোনো ছবি

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট ইস্যুতে দেশটির সরকারকে মিথ্যাচার বন্ধ করে প্রতিশ্রুতি পূরণে মনোযোগী হতে কড়া বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা কেন স্বেচ্ছায় ফিরতে আগ্রহী হচ্ছে না, তার সঠিক কারণগুলো সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী উ কিয়াও তিনের এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সদ্য সমাপ্ত ন্যাম সম্মেলনে উ কিয়াও তিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ধর্মীয় নিপীড়ন’, ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ ও ‘গণহত্যার’ মত শব্দ জুড়ে দিয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টিকে ‘ভিন্নভাবে’ চিত্রায়ণ করেছে বাংলাদেশ।

এছাড়া দেশটিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করার কারণ ব্যাখ্যাকালে এই জনগোষ্ঠীকে ‘বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকৃত অবৈধ অভিবাসী’ বলেও আখ্যায়িত করেন তিন।

পাশাপাশি এবার নতুন এক তত্ত্ব নিয়ে ন্যাপে  হাজির হয়েছিলো মিয়ানমার। দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে নিজের বক্তব্যে তিন এক অদ্ভুত ইতিহাসের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে মিয়ানমারে গিয়েছিল।

মিয়ানমারের এ ধরনের দাবিকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলেছে বাংলাদেশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ, তথ্যবিকৃতি এবং ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থান করা ওই বক্তব্যকে বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করছে।”

এ প্রসঙ্গে প্রকাশিত পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মাধ্যমে নয় বরং কফি আনান কমিশনের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাধিক সংস্থার অনুসন্ধান দ্বারা রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণ হিসেবে মিয়ানমারের সামরিক আগ্রাসন ও নিপীড়নের বিষয়টি প্রমাণিত। এছাড়া রাখাইন রাজ্যের আন্ত-সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সে অঞ্চলের উন্নয়নের ঘাটতির বিষয়টিও রোহিঙ্গা সংকটের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ হিসেবে ‘রাষ্ট্র দ্বারা সৃষ্ট বৈষম্য’ ইস্যুটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে কফি আনান কমিশন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

প্রকাশিত বিবৃতির তথ্য মতে, বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে, যাদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে নতুন করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

মিয়ানমার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফা চেষ্টা করেও রোহিঙ্গাদের কাউকে রাখাইনে ফেরত পাঠানো যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

“সঙ্কট প্রলম্বিত হওয়ার জন্য পুরোপুরিভাবে যারা দায়ী, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অযৌক্তিক অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ও নিরাপদে তাদের ভিটেমাটিতে ফেরানোর ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা থেকেই মিয়ানমার অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “মিয়ানমারকে এ ধরনের মিথ্যাচার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এব্ং নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হতে হবে।”

রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা এবং সেখানে আবার থিতু হওয়ার জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিষয়টি মিয়ানমারকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে বলেছে বাংলাদেশ।

এতে আরও বলা হয় যে, একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠির কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে একটি জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং তাদের উপর পরিচালিত নৃশংস সম্প্রদায়িক নির্যাতন কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না।

এ সময়, ‘বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পুনর্বাসন ক্যাম্পে মিয়ানমারের এআরএসএ উগ্রপন্থী সদস্যরা আশ্রিত’- দেশটির এমন দাবির বিপরিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পুনর্বাসন ক্যাম্পগুলোতে কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান করা হয়নি। সেখানে কোনো এআরএসএ সদস্যদের উপস্থিতির তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলেদেশের সরকার জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলার‍্যান্স’ নীতি অনুসরন করে আসছে।

বিবৃতিতে, নিজেদের আভ্যন্তরিন রাজনৈতিক সংকটের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা বাংলাদেশের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করছে মিয়ানমার। তাদের এই মিথ্যাচার বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যবর্তনের বিষয়ে মনযোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি জানিয়ে কড়া বার্তা প্রদান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15