শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ চীন করোনা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে, সামনে কঠিন সময় উখিয়ায় হেলপ কক্সবাজার’র উদ্যোগে উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন বনানীতে স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ‘করোনার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রসর হতে পারছে না মিয়ানমার’ ৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ: বাবা গ্রেপ্তার দুঃসময়ে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক: প্রধানমন্ত্রী ‘কয়েকটি দেশে করোনা পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হবে’ ‘দুই-তিন বছরে বাংলাদেশের সড়কে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে’ রোহিঙ্গা গণহত্যা: আইসিজে’তে মামলার পক্ষে নথিপথ জমা গাম্বিয়ার

যে পুলিশ বার বার জেল খাটিয়েছেন তাকেই কিডনি দিয়ে বাঁচালেন মহিলা

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অপরাধীরা সাধারণত পুলিশকে এড়িয়ে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এবার এক অন্যরকম ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার আলাবামা স্টেটে। জোসেলিন জেমস নামে এক মহিলাকে পুলিশ ১৬ বার গ্রেফতার করেছেন।
সেই পুলিশ অফিসারের প্রাণ বাঁচানোর জন্য কিডনি দিয়েছেন জেমস। খবর- আনন্দবাজার পত্রিকা।

বছর চল্লিশের জোসেলিন এক সময় পুলিশের খাতায় নাম তুলে ফেলেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে গ্রেফতারও হয়েছিলেন ১৬ বার। আসলে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মাদকের নেশায় তার চাকরি, গাড়ি সব চলে যায়। এমনকি চুরিও করতে শুরু করেন তিনি। ফলে পুলিশের খাতায় নাম উঠতে যেমন বেশি সময় লাগেনি তেমন ধরাও পড়েন বেশ কয়েক বার। বেশি ভাগ ক্ষেত্রেই তিনি টেরেল পটার নামে এক অফিসারের হাতে গ্রেফতার হন।

এরই মাঝে একদিন টিভিতে নিজের নাম দেখতে পান জোসেলিন। পুলিশের তরফে তাকে ধরতে সাহায্য করার আবেদন করে খবর সম্প্রচার হচ্ছিল। তার নাম উঠে গিয়েছিল মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিলানদের তালিকায়। এবার তার যেন টনক নড়ে। এতদিন যা পারেননি এবার সেই সিদ্ধান্তই নিয়ে বসেন জোসেলিন। ঠিক করেন পুলিশে হাতে ধরা দেবেন, মাদকের নেশা ছাড়ার চেষ্টা করবেন।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে প্রথমে ছ’মাস জেল খাটেন। তার পর তাকে রিহ্যাবে রাখা হয় ন’মাস। নিজের সঙ্গে প্রতিদিনের এই লড়াইয়ে এক সময় তিনি জিতে যান। মাদকের নেশা থেকে মুক্তি মেলে তার। এখন তিনি অন্যদের সাহায্য করছেন, যারা মাদকের নেশা থেকে মুক্ত হতে চান, তাদের নিয়ে কাজ করছেন জোসেলিন।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি তার জীবনের কাহিনী এক নতুন মোড় নেয়। ফেসবুকে তিনি জানতে পারেন, এক প্রাক্তন পুলিশ অফিসার কিডনির রোগে ভুগছেন। তার একটি কিডনি প্রয়োজন। এই অফিসার আর কেউ নন, তাকে বার বার গ্রেফতার করেছিলেন যিনি, সেই টেরেল পটার। ফেসবুকে টেরেলের মেয়ে পোস্টটি করেছিলেন বাবার জন্য কিডনি চেয়ে।

এবার নিজের মধ্যে আরও এক বার যুদ্ধ শুরু হয় জোসেলিনের। এক দিকে তাকে সপ্তাহে প্রায় ৭৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। আবার যার কিডনির প্রয়োজন, তিনিই বার বার তাকে গ্রেফতার করেছিলেন। এই অবস্থায় টেরেলকে কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন জোসোলিন। যোগাযোগ করেন টেরেলের পরিবারের সঙ্গে, জানান তার সিদ্ধান্তের কথা।

টেরেল জানিয়েছেন, তিনি যদি তাকে কিডনি দিতে ইচ্ছুক ১০০ জনের একটা তালিকা তৈরি করেন, তাতেও নাম আসবে না জোসেলিনের। কারণ জোসেলিনের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগই ছিল না। আর জোসেলিনের মতো একজন কেনই বা তাকে কিডনি দিতে যাবেন! কিন্তু ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাস তাদের ফের এক বার মিলিয়ে দিল।

জুলাই মাসেই একটি হাসপাতালে তাদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়। বর্তমানে দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15