বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

বনানীতে স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

বনানীতে স্ত্রী ফরিদা হকের কবরের পাশে শায়িত হলেন খ্যাতিমান আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা তিনটার কিছু আগে স্ত্রীর কবরের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ওই হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন। রফিক-উল হকের প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন আদ-দ্বীন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ সাইদুল ইসলাম।

পরে মরদেহ পল্টনের বাসায় নেয়া হয়। বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাজা নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

বায়তুল মোকাররমে জানাজা শেষে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মরদেহ নেয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্টে। বেলা দুইটা আট মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে রফিক-উল হকের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে নেয়া হয়।

দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তার তৃতীয় নামাজে জানাজার মধ্যে দিয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের শেষ বিদায় হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। গত শনিবার তিনি কিছুটা সুস্থবোধ করলে সকালের দিকে রিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরে যান। কিন্তু দুপুরের পরপরই ফের তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

জানা গেছে, রক্তশূন্যতা, ইউরিন সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছেন প্রবীণ এই আইনজীবী। তিনি ডা. রিচমন্ড রোল্যান্ড গোমেজের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

এর আগে গত জুনে ডায়াবেটিস কমে যাওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তখন তিনি পল্টনের বাসায় অবস্থান করেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল)।

২০১৭ সালে বাম পায়ের হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়ে। এ কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না।

যার কারণে বয়োবৃদ্ধ খ্যাতিমান এ মানুষটির বিছানায় শুয়েই দিনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে গত দুই বছরে। চলাফেরা করতে হুইল চেয়ার আর কর্মচারীরাই ছিল তার সঙ্গী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15