বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

অধ্যক্ষকে টেনে-হিঁচড়ে ১৫ ফুট গভীর পুকুরে ফেলল ‘ছাত্রলীগ কর্মীরা’

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৭৮

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে টেনে-হিঁচড়ে ১২ থেকে ১৫ ফুট গভীর পুকুরে ফেলে দিয়েছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে অধ্যক্ষ নামাজ পড়ে নিজ কার্যালয়ে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, একটি পুকুর পাড়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ। সেখানে থাকা কয়েকজন তাকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলে দেন। এ সময় সেখানে আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যক্ষ ফরিদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের ছেলেরা অন্যায় দাবি নিয়ে আসতো আমার কাছে। সেসব দাবি না মানায় তারা আমার ওপর ক্ষুদ্ধ ছিল। তাদের দাবিগুলো মানার মতো থাকে না।’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘ক্লাশে উপস্থিতি কম থাকায় দুজন ছাত্রের ফরম পূরণ হয়নি। সেই দুই ছাত্রের ফরম পুরণ করানোর জন্য সকালে কয়েকজন আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু আমি বিভাগীয় প্রধানের কাছে যেতে বলি। এ সময় তারা আমাকে নিয়ে আমার সামনে অশালীন মন্তব্য করে। এতে আমি তাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে কয়েকটি কথা বলি। এরপর তারা আমার ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে চলে যায়।’

অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘দুপুরে নামাজ পড়ে অফিসে যাওয়ার সময় কামাল হোসেন সৌরব নামের এক ছাত্র (ছাত্রলীগ) আমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে বলে, “স্যার কথা আছে। একটু পুকুরের ধারের দিকে আসেন”। আমি যেতে না চাইলে তারা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর তারা পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুজনের মুখ বাধা ছিল।’

রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ বলেন, ‘যেখানে আমাকে ফেলে দিয়েছে সেখানকার পানির গভীরতা ছিল ১২ থেকে ১৫ ফুট। আমি সাঁতার জানতাম বলে বেঁচে গেছি। সাঁতার কেটে পাড়ে চলে এসেছি। সাঁতার না জানলে হয়তো আজই শেষ হয়ে যেতাম।’ এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রিগেন বলেন, ‘অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’ এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গোলাম মোস্তাফা বলেন, ‘খবর পেয়ে পলিটেকনিকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15