মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

বিবিসির প্রভাবশালীর তালিকায় রামুর রিমু

সোয়েব সাঈদ ::
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ২১

বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকা ২০২০ এ ঠাঁই পেয়েছেন কক্সবাজারের রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু। কয়েকবছর ধরে রিমা সুলতানা রিমু রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা, রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও শিশুদের শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, বয়সভিত্তিক স্বাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা, রেডিও ব্রডকাস্ট ও থিয়েটার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও নারীর অগ্রগতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে করছেন।

রিমা সুলতানা রিমু কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার কৃষক আবদুর রহিম ও গৃহিনী খালেদা বেগমের মেয়ে। রিমু কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি ফলপ্রার্থী। ৪ ভাই বোনের মধ্যে রিমা সুলতানা রিমু ২য়।

২০১৯ সালে রিমু জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালে জাতি সংঘের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। ওই সময় রিমু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরেরও সুযোগ পায়। রিমু কক্সবাজার ভিত্তিক ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিস এর একজন সদস্য। রিমু গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ উইমেন পিসবিল্ডার্স এর সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংঘাতসঙ্কুল দেশ থেকে আসা কিশোরীদের কল্যাণে কাজ করছেন। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে নারীদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা।

পাকিস্তানী অভিনেত্রী মাহিরা খান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সানিয়া নিশতার, ভারতের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশ ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বানুসহ আরও অনেকে সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের সাথে এ তালিকাতেই ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের ২ নারী। এরমধ্যে রয়েছেন রামুর মেয়ে রিমা সুলতানা রিমু।

জানা গেছে, রিমা সুলতানা রিমু ২ বছর পূর্বে বেসরকারি সংস্থা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এর শিক্ষাবান্ধব গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেকে গড়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় দক্ষ করার পাশাপাশি এ সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক সেবা ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে রিমু ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এর নির্বাহী সদস্য, গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারের সহ অফিস সম্পাদক এবং কিডস ক্লাবের কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রিমু লন্ডন ভিত্তিক সংস্থা বিটিএম এর ফরেন এ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।

জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিউলী শর্মা জানিয়েছেন-রিমুর এ সফলতায় পুরো জাগো নারী পরিবার আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি জানান-এ সংস্থার আওতায় জাতিসংঘের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচনের জন্য রামু ও উখিয়া উপজেলার ৩০ জন সেচ্ছাসেবী কিশোরী প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এরমধ্যে রিমা সুলতানা রিমু সর্বাধিক কর্মদক্ষতা, মেধার স্বাক্ষর রেখে জাতিসংঘের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। রিমু রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের শিক্ষার প্রসার, নারী অধিকার বাস্তবায়ন, সমাজ উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কর্মকান্ডে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন। যার স্বীকৃতি আজ বিশ^বাসী দেখছে।

ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বিটিএম এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সাহেদুল ইসলাম রায়হান জানান, ২০১৮ সাল থেকে রিমা সুলতানা রিমু ইউসা ও গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারের কাজ করছে। তাঁর মেধা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা দেখে সংগঠনের পক্ষ থেকে উৎসাহ পেয়ে তিনি আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করার প্রেরনা পায়। পরে গ্লোবাল ইংলিশ লার্নিং সেন্টার ও জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে রিমু জাতি সংঘের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের গার্লস এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি রিমু মানবিক কর্মকান্ডে যেভাবে নিজেকে বিকশিত করেছে তা বিরল। এমন উদ্যোমী, প্রতিভাবান কিশোরীর সাফল্য এবং তাঁর সাথে কাজ করতে পারা আমাদের জন্য আনন্দের। তাঁর এ অদম্য অগ্রযায় আমরা ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো।

ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফর স্যোশাল এ্যাকশন (ইউসা) এবং গ্লোবাল ইংলিশ লার্ণিং সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান-রিমু সমাজের নারী ও শিশু বিষয়কে কেন্দ্র করে সর্বদা সৃজনশীল চিন্তা ও চেঞ্জমেকার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। যা দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিবিসি ১০০ নারীর তালিকায় রিমুর নাম দেখে জিইএলসি পরিবার আনন্দিত।

বিবিসি বাংলার ১০০ নারীর তালিকায় ঠাঁই পাওয়া রিমা সুলতানা রিমু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন- এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে তাঁকে সৃজনশীল ও মানবিক কাজে অনুপ্রেরনা যোগাবে। মানুষের কল্যাণে মানুষকেই ভূমিকা রাখতে হবে। ভালো কাজে যুব সমাজ যেন হাল ছেড়ে না দেয়। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সব সময় নিজেদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

বিবিসি বলছে এবার একশ নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিতে হাইলাইট করেছে তা হলো যারা পরিবর্তন আনতে নেতৃত্ব দিয়েছন এবং মহামারির এই কঠিন সময়েও তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন। তালিকায় আছেন ফিনল্যান্ডের কোয়ালিশন সরকার যার প্রতিটি সদস্য নারী তার প্রধান স্যান্না ম্যারিন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা ভাইরাস টিকা গবেষণা দলের প্রধান সারাহ গিলবার্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15