মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

উখিয়া ছাড়লেও করোনা পরীক্ষার আগে ভাষাণচরে নয়

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৫

কক্সবাজারের উখিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু হলেও করোনা পরীক্ষা ছাড়া কাউকে নোয়াখালীর ভাষাণচরের নতুন আশ্রয়ণ প্রকল্পে রাখা হবে না।

বৃহস্পতিবার সকালে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠ থেকে ১শ’ রোহিঙ্গা পরিবারকে বহনকারী ২০টি বাস যাত্রা শুরু করে।

তবে, স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উখিয়া ক্যাম্প থেকে তাদের চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নেয়া হচ্ছে। সেখান থেকে শুক্রবার তাদের ভাসানচরে নেয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম দফায় প্রায় ১শ’ রোহিঙ্গা পরিবারকে স্থানান্তর করা হবে। ভাসানচরে যেতে আগ্রহীদের কক্সবাজার থেকে করোনা পরীক্ষা করিয়ে বাসযোগে চট্টগ্রাম আনা হবে। সেখান থেকে নৌ বাহিনীর জাহাজে ভাসানচর যাবেন মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে র‌্যাব।

নোয়াখালী ভাসানচর রোহিঙ্গা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা; শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গত বুধবার রাত থেকে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে এনে জামায়েত করা হয়।

স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবার ভাসানচরে যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্য দিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ভাসানচরের। স্বেচ্ছায় স্থানান্তরে রাজি হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নিয়ে যেতে প্রস্তুত নৌবাহিনীর ১২টি ও সেনাবাহিনীর একটি জাহাজ। এরই মধ্যে ভাসানচরে মজুদ রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

ভাসানচরে প্রথম ধাপে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখা হবে ৫ থেকে ১১ নম্বর ক্লাস্টারে। ৩ মাসের মজুদ সক্ষমতার খাদ্য গুদামে প্রস্তুত ৬৬ টন খাদ্যপণ্য। তবে প্রথম দিকে রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করবে আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার।

ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১ হাজার ৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি সাইক্লোন সেন্টারে থাকতে পারবেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৬০ জন রোহিঙ্গা। পাবেন খাদ্য, চিকিৎসা। এমনকি শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের এদেশে সাময়িক অবস্থান যেন আরো শোভন হয়, সে চেষ্টার কমতি করেনি সরকার। তাই ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ভাসানচরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল আশ্রয়ণ প্রকল্প।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন নির্বিঘ্ন করতে আগেই ভাসানচরে পৌঁছেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় আড়াইশ সদস্য এবং ২২ এনজিও’র কর্মকর্তারা। প্রথম দলের বসবাস শুরুর পর কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা মিয়ানমারের বাকি নাগরিকরাও ভাসানচরে আসতে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালের ২৪ অগাস্ট মিয়ানমার সরকারে অব্যাহত দমন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা। আর আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১১ লক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15