মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::

আমি ‘অমুক ভাই এর কর্মী, রাজপথ ছাড়ি নাই’

ফারাজ করিম চৌধুরী ::
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১১

আমার এক বন্ধু সেদিন একটি রেস্টুরেন্টে খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমি তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা দুই বন্ধু মিলে সেখানে কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ করা অবস্থায় দূর থেকে ২ জন তরুণ ছেলে আমার কাছে এসে বললো, “আপনি কি ফারাজ করিম চৌধুরী?” আমি বললাম, ‘জ্বি।’ তারা বললো, “আমরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে পড়ি। আমরা রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে আপনার বিপরীত দলের।” উত্তরে আমি বললাম, ” বিপরীত রাজনৈতিক দলের হতে পারেন তবে আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা সবাই দেশের জন্যই রাজনীতি করি।” তারা আমার এই কথায় ‘হ্যাঁ’ সূচক সম্মতি দিল। কথাগুলো বলার পর আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, “তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?” এ ব্যাপারে তারা আমার সাথে কিছুক্ষণ আলাপ করার পর আমরা যে যার মতো সেখান থেকে বিদায় নিলাম।

এই ধরণের রাজনীতিই আমরা প্রত্যাশা করি। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যে, এ কথাগুলো আমি বলেছি ঠিকই, কিন্তু আমার নিজ এলাকায় হয়তো এরকম সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান আমি এখনো তৈরী করতে পারি নি। আমার যাত্রা তো সবেমাত্র শুরু, আমি স্বপ্ন দেখি যে আমার নিজ এলাকা থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে একদিন সকল দলের মধ্যে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক তৈরী হবে। শুধুমাত্র পার্থক্য থাকবে কৌশলগত। তবে বঙ্গবন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের প্রশ্নে কোন ধরনের মতপার্থক্য থাকবে না। যেমন ধরুন পদ্মা সেতু নিয়ে দুই দলের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তবে সত্য কথা হচ্ছে পদ্মা সেতু উভয় দলের জন্যই ভালো। দেশের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য মঙ্গল। পুরনো কথা বাদ দিয়ে আমাদের সকলের উচিৎ জনগণের পয়সায় নির্মিত এই সেতুকে সম্মানের সাথে দেখা। আগামীতে দেশে এরকম আরো বড় বড় প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও খরচের মধ্যে হোক এমনটাই আমরা তরুণরা চাই। পরিষ্কার করতে চাই, এই সেতু যদি আজ আমাদের সরকার না করে অন্য কোন সরকার করতো আমি তাদের অভিনন্দন জানতাম। কারণ এটা আমার দেশের সম্পদ, জাতির সম্পদ। পদ্মার ওপার থেকে যারা ঢাকা আসে, তাদের এই পদ্মা নদীর জন্য যে কি পরিমান অমানবিক ভোগান্তি হয়, কি পরিমান সময় নষ্ট হয়, রোগী বয়স্ক লোকের যে কতটা কষ্ট হয় তা যারা আসে নিনি তারা কোন দিন বুঝবে না। আমরা তো জানি না যে পদ্মার ওপারে যারা থাকে তাদের কাছে পদ্মা সেতু কোন সেতু না, এইটা একটা আবেগ, একটা ভালোবাসা, একটা স্বপ্ন।

আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের বর্তমানে সবচেয়ে জরুরী হল কথাবার্তায় শিষ্টাচার অনুসরণ করা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রায় সময় কথাবার্তার মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে, যা সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করে। তাদের এমন অনভিপ্রেত কাজের কুফল জনগণকে ভোগ করতে হয়। একজন রাজনীতিবিদ আমার দলের অনুসারী বলে সে অন্যদলের ভালো কাজগুলোতে সহযোগিতা করতে পারবে না, অন্য দলের কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যেতে পারবে না, এমনটা হতে পারে না। আমাদের এমন কিছু মূল বিষয়গুলোতে যদি পরিবর্তন করা যায়, তবে আমাদের দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে ইনশাআল্লাহ।

আর সবচেয়ে জরুরী বিষয় হচ্ছে সিস্টেম পরিবর্তন। আমি যদি প্রশ্ন করি যে বাংলাদেশে রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার নিয়ম কি? উত্তর আসবে যে এলাকার অমুক ভাই তমুক ভাইয়ের সাথে একটা সেলফি তুলে, পরের স্টেপে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যে আমি ‘অমুক ভাই এর কর্মী, রাজপথ ছাড়ি নাই’। এরপর দুই চারটা গালাগাল দেওয়া এবং অন্যান্য দলকে কটাক্ষ করা। এই যদি হয় পদ্ধতি, তাহলে দল যেটাই হোক, নেতা টেকসই হবেনা।

 

লিখাটি ফারাজ করিম চৌধুরীর ফেইসবুক ফেইজ থেকে নেওয়া 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15