শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

ক্যাম্পে অবৈধভাবে চলছে রোহিঙ্গাদের শত কোটি টাকার স্বর্ণ বানিজ্য !

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৬৫

উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে ৩২টি। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশী রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের ঘিরে ক্যাম্প এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে স্বর্নের দোকান। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক স্বর্ণের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের বেশীর ভাগ দোকানের মালিক রোহিঙ্গা।  কিছু কিছু দোকানে বেতনভুক্ত বাংলাদেশিদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এলাকাভিত্তিক বাড়তি সুবিধা নিতে।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসনের যোগসাজশে রোহিঙ্গারা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছরে প্রায় শত কোটি টাকার স্বর্নের ব্যবসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক স্বর্ন ব্যবসায়ী। স্বর্ণের দোকান ছাড়া মুদির দোকানের পেছনে স্বর্ণ তৈরী করতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গারা প্রতিদিন স্বর্ণের দোকানে ভিড় লেগে থাকে।

সরকারের বিনা অনুমতিতে কোন প্রকার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই এসব জুয়েলার্সের দোকান খোলা হয়েছে। আর প্রতিদিন উক্ত দোকান গুলোতে স্বর্ণ ক্রয় করতে এসে প্রতারিত হচ্ছে অনেকেই। এমনও অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের ও নকল স্বর্ণ বিক্রি করে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত বছর উখিয়া উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একাধিক  স্বর্ণের দোকান সিলগালা করেন। এসময় জরিমানাও আদায় করেন। কিন্ত ক্যাম্প প্রশাসনের সাথে অলিখিত চুক্তি থাকার কারনে তাদের থামানো যায়নি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইনখালী, পালংখালি, মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, জামতলী, ময়নাঘোনা, তাজনিমার খোলা সহ ক্যাম্প ভিওিক বাজারে ছোট বড় তিন শতাধিক স্বর্ণের দোকান। এসব দোকানে কোন কাগজ পত্র নেই। স্বর্ণের দোকানের আড়ালে কিছু কিছু ব্যবসায়ী সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বর্ণের দোকান সমুহ মহামায়া জুয়েলার্স, অষ্টম জুয়েলার্স, মদিনা গোল্ড কালেকশন, মা বনরুপা জুয়েলার্স, আরোহী জুয়েলার্স, আজমীর স্বর্ণকার, মংছিং স্বর্ণকার, পূর্ণিমা জুয়েলার্স, নারায়নপুরী জুয়েলার্স, সৈকত জুয়েলার্স, শুভশ্রী জুয়েলার্স, সৌরভ জুয়েলার্স, সৈকত জুয়েলার্স, এ.এ স্বর্ণকার, রাখাইন স্বর্ণকার, পিকে স্বর্ণকার, পিজে স্বর্ণকার, অঙ্কিত জুয়েলার্স, শাহজালাল স্বর্ণকার, মদিনা গোল্ড ফ্যাশন, শাহ আমানত স্বর্ণকার, জগন্নাথ স্বর্ণকার, বার আউলিয়া স্বর্ণকার, চেন্নাই স্বর্ণকার, পাহাড়িকা স্বর্ণকার, ঐক্য স্বর্ণকার নুরে মদিনা স্বর্ণকারসহ কুতুপালং বাজার, বালুখালী পানবাজার এবং মিয়ানমারের বলীবাজার খ্যাত পশ্চিম পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারে সাইনবোর্ড বিহীন অবৈধ স্বর্ণের দোকানে চলছে চোরাচালানী- পাচারকারীদের অবাধ বিচরণ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পুঁজি করে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গা স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা রাতারাতি জুয়েলার্সের দোকান খুলে বসে। এসব দোকানের আড়াঁলে চলছে চোরাই স্বর্ণের ব্যবসা। এসব দোকান থেকে ঢাকা চট্টগ্রামেও পাচার হচ্ছে। দোকান গুলো নিয়ন্ত্রণ করছে পেশাদার স্বর্ণ চোরাচালানী রোহিঙ্গারা। তারা এখনও মিয়ানমার থেকে নানা কায়দায় এদেশে স্বর্ণ পাচার করে নিয়ে আসছে। স্থানীয় স্বর্ন ব্যবসায়ী বলেন, এসব দোকান গড়ে উঠার কারনে বেচা বিক্রি কমে গেছে। তাই ক্যাম্প ভিওিক দোকান গুলো বন্ধ করে দেওয়ার দাবী জানান।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী ওসমান গনি সাংবাদিকদের বলেছেন, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক বাজারে অসংখ্য স্বর্ণের দোকান দেখে আমরাও রীতিমত অবাক হয়েছি। এসব দোকান গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন হস্তক্ষেপ নেই। রোহিঙ্গারা এত বড় বড় দোকান খুলে নির্বিঘেœ অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা জানায়, যে কোন জুয়েলার্সের দোকান খোলার পূর্বে সরকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, ইনকাম ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। কোন প্রকার সরকারী এসব ডকুমেন্টের তোয়াক্কা না করে রাতারাতি স্বর্ণের দোকান খুলে বসে কতিপয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে আশ্রিত রোহিঙ্গারাও চোরাই স্বর্ণের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাতে মানা হচ্ছেনা এদেশের কোন আইনকানুন।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মিন্টু ধর ও সাধারণ সম্পাদক আশিষ ধর এসব বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পালংখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্প ভিওিক স্বর্ণের দোকান গুলো বন্ধ করে দিতে হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15