শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

জাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ-আন্দোলনকারী মুখোমুখি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারীরা।

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে জমায়েত হয়ে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংহতি সমাবেশ করেন।

এদিকে, হল বন্ধের বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেও তা নাকচ করে হলে অবস্থান ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে উপাচার্যের বাসার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে হল বন্ধের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের মুখে তা আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এরপর আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির এক বৈঠকে আবাসিক হল বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল খালি করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল খালি করতে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’

এদিকে হল খালি করার নির্দেশনা প্রত্যাখান করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল ছাড়বেন না।

সূত্র মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল খালি করতে পুলিশি তল্লাশি চালাতে পারে। এমন আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকাগুলোর বিভিন্ন মেসে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের হল বন্ধের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যুক্তিহীন সিদ্ধান্তে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঝামেলায় পড়েছি। এত অল্প সময়েরে নোটিশে হল ছাড়া দুর্ভোগ ছাড়া কিছুই না। হল বন্ধের ঘোষণার পরও শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হলে অবস্থান করতে দেখা গেছে।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংহতি সমাবেশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আজ সংহতি সমাবেশের আয়োজন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা সংহতি প্রকাশ করেন।

সংহতি সামবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই উপাচার্যের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশা করছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের শিক্ষক থাকতে পারেন না। উপাচার্য ছাত্রলীগের হামলাকে “গণঅভ্যুত্থান” বলেছেন। কিন্তু প্রকৃত গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে তিনি হল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ঠিকাদারের সঙ্গে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার মতো ভিসি যেন আর নিয়োগ না পায়। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানো যাবে না।’

আনু মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘যে সমস্যা সমাধানের জন্য হল বন্ধ করা হয়েছে সেটা কোনো সমাধান নয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার মাধ্যমে উপাচার্য পূর্ণ নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। সরকারি ছাত্র সংগঠনের দ্বারাই দুর্নীতির বিষয়টা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো পদেক্ষপ নেয়নি। আজকের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শুনতে চাই। গণঅভ্যুত্থানের ভয়েই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখেছে প্রশাসন। গণঅভ্যুত্থান হবে এবং তার ফলাফল হিসেবে আপনি (উপাচার্য) অপসারিত হবেন। ভিসি নিজেই আন্দোলনকে ভিসিবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। এই আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগরে নয় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।’

সংহতি সমাবেশে শিক্ষর্থী তাপস্বী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) মেয়েদের একটি মিছিল নিয়ে মেয়েদের হলে প্রবেশ করি। হলে প্রাধাক্ষ্যরা তাদের তালা দিয়ে বন্দী করে রেখেছে। আমরা তাদের মুক্ত করেছি। একজন ছাত্রীর পেটে লাথি দেওয়া হলো। আর উপাচার্য বললেন, তার আনন্দের দিন কেটেছে, এটা কত নির্লজ্জের!’

জাবির সাবেক অধ্যাপক সৌদা আখতার সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) যখন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে শিক্ষক মারছেন, এটা খুবই মর্মাহত করেছে। জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়৷ ভিসিকে অবশ্যই যেতে হবে এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি আজ এখানে এসেছি সংহতি জানাতে। আমিও আপনাদের সঙ্গে আছি। গতকালকের ঘটনায় আমি ব্যথিত ও মর্মাহত। সিন্ডিকেটে গতকাল হল ভ্যাকেন্ডের (বন্ধ) যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার বিরোধিতা করছি।’

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের দাবি নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে। এই দাবি এখন সারা বাংলার ছাত্রসমাজের। আপনার গণঅভ্যুত্থানের বক্তব্যের পর সারা দেশে আপনার বিরুদ্ধে গণ-ছাত্রঅভ্যুত্থান হয়েছে। এই আন্দোলনের বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না।’ আগামীর আন্দোলনে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাবির শিক্ষক সমিতি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা সমাবেশে সংহিত জানিয়ে বলেন, ‘গতকালের ঘটনায় আমরা দেখেছি কীভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী যে, শিক্ষক সমিতির পদে থেকেও কিছু করতে পারিনি। তাই সেই দায় নিয়েই পদত্যাগ করেছি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সংকট চলছে। এই সংকট সমাধানে সরকারকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সংহতি সমাবেশ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসা সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান থেকে সরবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15