শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

এখানে বিক্রি হন বাংলাদেশিরা

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৩
মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ সংযুক্ত আবর আমিরাত। প্রতি বছর দেশটির সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে থাকে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এখানেও বাংলাদেশের মতো কাজের জন্য বিক্রি হোন বাংলাদেশি শ্রমিকেরা।
দেশটির বড় শহর দুবাইয়ের ডেরায় আল-নাকিলে প্রতিদিন মাগরিবের পর জড়ো হন অসংখ্য বাংলাদেশি। তাদের লক্ষ্য দিনমজুরের কাজ পাওয়া। দুবাইয়ের প্রবাসীরা জায়গাটি মানুষ ‘কেনাবেচার বাজার’ বলেন।
জানা গেছে, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ লোক জড়ো হয়েছেন সেখানে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক, কন্ট্রাক্টর কিংবা ম্যানেজাররা আসেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা, দর-কষাকষি করেন। দুই পক্ষ দাম নিয়ে সন্তুষ্ট হলে কাজের চুক্তি করেন। মূলত প্রতারণার শিকার বাংলাদেশিরা দৈনিক কাজের সন্ধানে এখানে বেশি আসেন।
জানা যায়, এখানে সাধারণত দুই ধরনের বাংলাদেশি প্রবাসীরা আসেন। অনেকে আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে এসেছেন কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে সব হারিয়েছেন। এখানে এসে কোনো চাকরি পাননি। তারা প্রতিনিয়ত এ বাজারে আসেন। অনেকে আছেন যারা নিয়মিত চাকরি করছেন। শুক্র ও শনিবার তাদের ছুটির দিন। সেসব বাংলাদেশি ছুটির দিনে বাড়তি আয়ের জন্য কাজের খোঁজে এখানে আসেন।
একটি সুপারশপে কাজ করি। করোনার কারণে বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার উপার্জিত টাকায় পরিবার চলে। গত কয়েক মাস ধার করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছি। বর্তমান চাকরিতে একদিন হাফ ও একদিন ছুটি পাই। এ সময় অন্যের হয়ে কাজ করি। গণমাধ্যমে জানান দুবাই প্রবাসী রিয়াজ খান (ছদ্মনাম)।
সাঈদুল আলম নামে এক প্রবাসী জানান, তার বাসা সিলেটের হবিগঞ্জে। গত আট বছর ধরে এখানে একটি সুপারশপে কর্মরত। বাংলাদেশি টাকায় আয় প্রায় ৪৩ হাজার। থাকা-খাওয়া ও ইনস্যুরেন্স বাদে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা দেশে পাঠান। আরও পাঠালে ভালো, কারণ সেখানে বৃদ্ধ বাবা-মা, দুই বোন ও স্ত্রী-সন্তানের খরচ চালাতে আরও টাকার প্রয়োজন। সে কারণে একদিনের কাজের সন্ধানে এখানে আসা।
ডেরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পর বসে এ বাজার। দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার হাফ বেলা অফিস, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। তাই বৃহস্পতি ও শুক্রবার সন্ধ্যায় এখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হন। মূলত রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের ভিড় বেশি থাকে। ৮টার পর বাজারে বাংলাদেশির সংখ্যা কমতে থাকে। ১০টার দিকে মোটামুটি খালি হয়ে যায়। এ বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষই সিলেট ও চট্টগ্রামের।
আল-নাকিরের বাংলাদেশি কেনাবেচার এ বাজারে সাধারণত ভবন নির্মাণের রাজমিস্ত্রি, রঙমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, হামালি (যোগালি), মালি প্রভৃতি কাজ মেলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15