শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুতের সংযোগই নেই, বিল হাজার টাকা!

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
  • ১২৯
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত শান্ত এন্ড ব্রাদার্স চাউল কল। এখন পর্যন্ত এই চাউল কলে বিদ্যুতের সংযোগ নেই। অথচ কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিস থেকে ওই চাল কলের নামে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের বিল এসেছে ১ হাজার ২০৩ টাকা।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য এই বিল দাবি করা হয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহারের পূর্ব রিডিং শূন্য এবং বর্তমান রিডিং শূন্য। অর্থ্যাৎ বিদ্যুতের ব্যবহার শূন্য ইউনিট। আর শূন্য ইউনিট ব্যবহারের জন্য দাবিকৃত বিল আগামি ৭ মার্চের মধ্যে বিলম্ব ফিসহ পরিশোধ করা না হলে কোনোরকম নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও বিলে বলা হয়েছে। ফলে এই ভুতুড়ে বিলসহ নোটিশ পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন চাউল কলটির মালিক মো. খাদেমুল ইসলাম।
শান্ত এন্ড ব্রাদার্স চাউল কলের মালিক মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, তিনি তার নতুন স্থাপিত চাউল কলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্য কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য আসেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কিন্তু ওই সময় ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা দেয়ার সংযোগ না দিয়ে তারা চলে যান।
এসময় উপস্থিত ডিজিএম কাওসার আলী এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সে সময় ত্রুটিপূর্ণ ট্রান্সফরমারটি খুলে নিয়ে যায় তারা। এরপর দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় চাউল কল চালু করতে পারেননি। এজন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেননি। তারপরও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে তার নামে ১ হাজার ২০৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠানো হয়েছে।
মো. খাদেমুল হক আরও জানান, বিলের কপি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিসের ডিজিএমের কাছে গেলে তিনি জানিয়েছেন, এটা মিনিমাম বিল। তাই পরিশোধ করতে হবে।
শুধু খাদেমুল ইসলাম নন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুতরে এবং অতিরিক্ত বিলের দাবিতে বিপাকে পড়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অনেক গ্রাহক।
তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামের সেচযন্ত্র ব্যবহারকারী কৃষক সাইফুর রহমান অভিযোগ করেছেন, গত জানুয়ারি মাসের বিল সিটে তার সেচযন্ত্রের অনুকূলে প্রায় ৬ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত যোগ করে ২২ হাজার ৯৩৫ টাকার বিল করা হয়েছে। যা ব্যবহৃত ইউনিটের চেয়ে ১৩৩ গুণ বেশি।
একই উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের  গ্রাহক মহির উদ্দিন দাবি করেছেন, জানুয়ারি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৭১৭ টাকা করা হয়েছে। অথচ তিনি এতো টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি।
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার বেলদহ গ্রামের গ্রাহক শাহ আলম জানান, তার কাছে জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল ১৮ হাজার ৯৫৯ টাকা দাবি করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধের সামর্থ্য তার নেই।
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের গ্রাহক আব্দুর রউফ জানান, বিদ্যুৎ বিলে ব্যবহৃত ইউনিট শূন্য রিডিং দেখিয়ে তার কাছে ২৪ হাজার ৭৯৫ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেয়া এমন ভুতুড়ে বিলে সাধারণ গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. কাওসার আলী জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন সেচযন্ত্র গ্রাহকসহ মোট ৬৫ হাজারের মতো বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। ইউনিট ব্যবহারের রিডিং নেয়ার সময় কিছু কমবেশি হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তা সংশোধন করে দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শান্ত এন্ড ব্রাদার্স চাউল কলে সংযোগ দেয়ার পর ট্রান্সফরমার সমস্যায় তারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেননি। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে না পারলেও অফিসিয়ালি তাদের সংযোগ রয়েছে বিধায় নিয়মানুযায়ী মিনিমাম চার্জ হিসেবে প্রদেয় বিল তাদের পরিশোধ করতে হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15