বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১১ অপরাহ্ন

জোর করেও আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া যাচ্ছে না, মাঠে পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১১৭

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণ দেশের উপকূলীয় ৯ জেলায় ১০ নম্বর ‘মহাবিপদ’ সংকেত জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে অনেককেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনিহা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সংকেত জারির পর থেকেই উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার থেকেই লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছিল। এরপরও তাদের মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে অনীহা দেখা যায়। মহাবিপদ সংকেতের কথা বলে জোর করে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে।

ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার গতির ঘূর্ণিবায় নিয়ে বুলবুল শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানবে বলে ওই সময় উপকূলজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস।

তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেছেন, জোয়ার শুরু ৫টায়, পিক টাইম ৯টায়। এসময় উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ঝরছে; আবহাওয়ায় রয়েছে অনেকটা গুমোট ভাব, যা আইলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে উপকূলবাসীকে। ১০ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবন এলাকায় আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আইলা। সেই ঝড়ের শক্তি ছিল বুলবুলের মতোই।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে খুলনায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পরও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না লোকজন। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বারবার মাইকিং করা হলেও শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কেউই আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে কেউ এগিয়ে গেলে তাকে পাল্টা শুনতে হচ্ছে ‘আপনি যাচ্ছেন না কেন?’।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসন জানায়, ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জানার পর সামান্য কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছে। বেশিরভাগই অপেক্ষা করছে, চরম পর্যায়ের জন্য! এছাড়া বুলবুলের খবরে সাগরে থাকা মাছধরা ট্রলার ও নৌকা তীরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনো নদীতে অনেক নৌকা ও ট্রলারকে মাছ ধরতে দেখা গেছে। এদিকে বুলবুল মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

একই অবস্থা দেখা গেছে কক্সবাজার ও চাঁদপুরে। সাতক্ষীরার কয়েকটি উপজেলার লোকও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তাদের একপ্রকার জোর করেই পাঠানো হচ্ছে আম্রয়কেন্দ্রে। এ জন্য মাঠে নেমেছে স্থাণীয় পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা।

এদিকে, নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাছ ধরার ট্রলার ও জেলে নৌকাগুলো উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সব নদীপথে যাত্রীবাহী লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের মহাপরিচালক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সাত জেলাসহ যে সব জেলা দুর্যোগপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে প্রস্তুতি সাজানো হয়েছে।

বলার পরও যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছেন না, তাদের নিতে বাধ্য করতে পুলিশ নামানো হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ তৎপরতার জন্য। পাশাপাশি উপকূলীয় সেনা ক্যাম্পগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ২০০০ প্যাকেট করে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকে এবং ২২টি কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করছে।

উপকূলীয় ১৩ জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব জেলার সব কর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তারা গঠন করেছে ১ হাজার ৫৭৭টি মেডিকেল টিম।

ঝড় এগিয়ে আসায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল শনিবারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। শনিবার আরেক ঘোষণায় সোমবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শনিবারের সব পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। এ পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে তা পরে জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15