বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩১ অপরাহ্ন

এসএসসির ফরম পূরণ করা হলো না ফারজানার

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৯৪

খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্রীমঙ্গল গিয়েছিল এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৬)। বাড়ি ফিরে ফরম পূরণের কথা ছিল তার। বাড়ি ফিরে আসলেও ফরম পূরণ আর করা হলো না ফারজানার।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের একজন সে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ দিন হওয়ায় অনেকটা তড়িঘড়ি করেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্রীমঙ্গল থেকে উদয়ন এক্সপ্রেসে করে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয় ফারজানা।

ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয় তার মাসহ পরিবারের আরও সাত সদস্য।

এ ঘটনায় ফারজানার স্বজন, এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ফারজানা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কাতার প্রবাসী বিল্লাল হোসেন বেপারীর মেয়ে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ফারজানা ছিল সবার বড়। বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর খালতো বোন ঝুমার বিয়েতে মা বেবী বেগম, নানি ফিরোজা বেগম, ভাই হাসান বেপারী, মামি সাহিদা বেগম, মামাতো বোন মিতু আক্তার, মিতুর শিশুসন্তান ধ্রুব, মামাতো বোন ইবলিসহ আটজন সিলেটের শ্রীমঙ্গলে যায়।

বিয়ে শেষে পাঁচ দিন পর ফারজানার ফরম পূরণের জন্য চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

লাকসাম হয়ে তাদের চাঁদপুরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়।

ট্রেনের চাপায় ফারজানার হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বড় ভাই হাসান বেপারীর দুটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফারজানার আহত স্বজনদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা বারডেম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে দুপুরে ফারজানার লাশ তার গ্রামের বাড়ি বালিয়ায় আসলে শত শত গ্রামবাসী ও স্কুলের সহপাঠীরা তাকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করে।

ফারজানার সহপাঠী বিলকিস আক্তার জানায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ দিন ছিল। ফরম পূরণের জন্য সে উদ্‌গ্রীব ছিল। বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় ফারজানা সকল বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিল।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ফারজানার মৃতদেহ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সে মেধাবী ছাত্রী ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15