সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

অন্যের পোস্ট শেয়ার করায় উপজেলা চেয়ারম্যান কারাগারে

উখিয়া সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪১

অন্যের ফেসবুক আইডির একটি পোস্ট নিজ আইডিতে শেয়ার করার মামলায় কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (বহিষ্কৃত) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. শাহজাহান শিশিরকে (৪৮) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল মজুমদার জানান, মামলাটিতে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন চেয়ারম্যান শিশির। তখন হাইকোর্ট ৬ সপ্তাহের জামিন দিয়ে তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী আসামি আত্মসমর্পন করেছিলেন। তিনি বলেন, অন্য একজনের একটি পোস্ট তিনি তার আইডিতে অসাবধানতাবশত শেয়ার করেছিলেন। যে বিষয়ে পোস্টটি ছিল, সেই সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি মামলা করেন নাই। দুঃখজনকভাবে সে মামলায় তার আসামিকে জেলে যেতে হলো।

২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর মেহেদী হাসান মেরিন নামে একজন আইনজীবী ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলার আবেদন করেন। অভিযোগটি ট্রাইব্যুনাল ধানমন্ডি থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ধানমন্ডি থানা অভিযোগটি এহাজার হিসেবে গ্রহণ করেন। মামলায় চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান শিশিরকে এক নম্বর এবং যিনি পোস্টটি দিয়েছিলেন সেই জুয়েল সরকারকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৪ জুলাই চেয়ারম্যান শিশির একটি পোস্ট তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। যা দিয়েছিলেন ২ নম্বর আসামি জুয়েল সরকার। ওই পোস্টের বক্তব্য ছিল এই যে, ‘দেশে কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে অথচ খালেদা জিয়া দুই কোটি টাকা লুটের জন্য জেলে!! আবার শাহজাহান শিশির ন্যায় হোক আর অন্যায়ে হোক প্রকৌশলীর গায়ে হাততুলায় বহিষ্কার!! এই দেশে কি কোনো দুর্নীতি, কোনো ক্ষমতাবান ক্ষমতা দেখায় না? প্রশ্ন হলো দেশের বিচার করে কে, আর কচুয়ার বিচার করে কে? ও মাগো কত ঢংয়ের বিচার হচ্ছে এই দেশে.. থাক বেশি কিছু লিখলে কার আবার চুলকানি বেড়ে যাবে কারণ এই দেশে উচিত বলা এখন অনুচিত!!’ আসামিরা ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের সরকার ও বিচার ব্যবস্থাকে বিষোদগার করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছর ১৯ জুলাই কচুয়ায় সরকারি শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন বহুতল একটির ভবনে কাজের মান নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী নূর আলমকে চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির মারধর করেন। ওই ঘটনার চারদিন পর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চেয়ারম্যান শিশিরকে বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া ওই প্রকৌশলী শিশিরের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এবং জনৈক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলায় ওই বছর ২৫ আগস্ট চাদপুর আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। ওই মামলায় পরবর্তীতে তিনি জামিন পান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15