মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:১১ অপরাহ্ন

‘মা কোথায়, মাকে ডাকো, ওহ বাবা, মাকে ডাকো না’

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৭৯

“মা কোথায়? মাকে ডাকো। আমি মার কাছে যাব। ওহ বাবা, মাকে ডাকো না’।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আতিউর রহমান শুভ (৬) এভাবেই তার মাকে খুঁজছিল।

শুভ তো জানে না তার মা জুলেখা খানম ফারজানা (৩৪) ও বড় ভাই আতিকুর রহমান (০৮) রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড রোড এলাকার বড়ুয়া বিল্ডিংয়ে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহত জুলেখা বেগম একই এলাকার অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের স্ত্রী। একই এলাকার বানু ভিলা নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।

বড় ছেলে আতিকুর রহমানকে কোচিংয়ের নেওয়ার পথেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারমিন সুলতানা নামে তাদের এক নিকটাত্মীয়।

তিনি বলেন, ‘শুভ ও আতিকুর দুই ভাই। দুই ভাই-ই পাথরঘাটা এলাকার সেন্ট প্লাসিড স্কুলে পড়ে। শুভ প্লে-ইভিনিং আর আতিকুর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। শুভর বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে ৭টার দিকে শুভকে সেন্ট প্লাসিড স্কুলে পরীক্ষার হলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন মা জুলেখা খানম।

পরবর্তীতে সাড়ে ৮টার দিকে আবারও বাসা থেকে বেরিয়ে বড় ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিল। বাসা থেকে হেঁটে কোতোয়ালী মোড়ের দিকে যাচ্ছিল মা-ছেলে। পথিমধ্যে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ হয়ে মা-ছেলে মারা গেলেন’।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মা জুলেখা খানম দুই ছেলের লেখাপড়া নিয়ে খুব দায়িত্বশীল ছিলেন।

দুপুর দেড়টার দিকে চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জুলেখা খানমের স্বামী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বিলাপ করে কাঁদছেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমাকে রেখে কেন চলে গেলে। আমাকেও নিয়ে যেতে। আমি কী দোষ করেছি। এভাবে কেন তোমার মৃত্যু হলো। আল্লাহ আমাকেও নিয়ে যাও। আমি কাকে নিয়ে বাঁচব। আমার শুভকে এখন কে দেখবে? আমাকেও নিয়ে যাও আল্লাহ। ’

কাঁদতে কাঁদতে আতাউর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পাশেই বসা শুভ। পরীক্ষা শেষ করে এসে তার মাকে খুঁজছে।

শুভ কেঁদে কেঁদে বলে ওঠে ‘আমার মা কোথায়, মাকে ডাকো। আমি মার কাছে যাব। আমার মা স্কুল থেকে আমাকে আনতে যায়নি কেন? মা কই? বাবা-মাকে ডাকো। ’

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড রোড এলাকার বড়ুয়া বিল্ডিংয়ে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নারী, শিশুসহ সাতজন নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

নিহতরা হলেন- আতিকুর রহমান (০৮), জুলেখা খানম ফারজানা (৩৪), স্কুলশিক্ষিকা এ্যানি বড়ুয়া (৩২), নুরুল ইসলাম (৩৩)।

বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। আহতরা চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15