মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১০:১৭ অপরাহ্ন

কিশোরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, থানায় নিয়ে নির্যাতন

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৪

সদ্য জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া কিশোর মইন খন্দকার কারাগারে পায়ের ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তার দুই পা ফুলে গেছে। ভর ছাড়া হাঁটতে পারে না। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কথিত ইয়াবাসহ আটকের পর তাকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক এনামুল হকের বিরুদ্ধে। মইন প্রকৃতই ইয়াবা বিক্রেতা কি-না, নাকি তাকে ফাঁসানো হয়েছে- বিষয়টি এখনও তদন্ত করছে বরিশাল মহানগর (বিএমপি) পুলিশ। তবে এরই মধ্যে ১৪ বছরের এ কিশোরের অনেক দাগী অপরাধীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে একসঙ্গে থাকার দু’দিনের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে।

রোববার কারাগারে মইনের সঙ্গে দেখা করার পর মা শাহিনুর বেগম ও বাবা সাইদুল হক হিরন কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে অমানুষিক পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ছেলের বক্তব্যের বরাত দিয়ে তারা বলেন, মইনের হাত বেঁধে কোমরের নিচের অংশে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে।

মইনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলার সাক্ষী আশ্রাফুল আলম মিলন সিকদার বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি মইনকে দেখতে বিমানবন্দর থানায় গিয়েছিলেন। তখন মইন তাকে পা দুটো ধরে দেখার আকুতি জানায়। মিলন সিকদার বলেন, ওর ফোলা পায়ে হাত দিয়ে আমার চোখে পানি এসে যায়। তিনি আরও বলেন, মইন যেখানে বসা ছিল তার আশপাশ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে- এমন কথা বলে আমাকে মামলার সাক্ষী করেছে পুলিশ। এখন মামলায় বলা হয়েছে, মইনের কাছ থেকে নাকি ইয়াবা পাওয়া গেছে।

নিরীহ কিশোরকে কথিত ইয়াবা উদ্ধারের নামে গ্রেপ্তার ও থানায় নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠীবাসী। তারা এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এনামুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পশ্চিম ইছাকাঠীতে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী অর্ধশত নারী-পুরুষ বলেন, বাড়ির পাশে মসজিদ সংলগ্ন গাছের ওপর মইন মোবাইল নিয়ে কী যেন করছিল। মাগরিবের নামাজের আগমুহূর্তে দু’জন সাদা পোশাকধারী এসে মইনকে জাপটে ধরে মারধর করতে থাকেন। এগিয়ে গেলে তারা পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলেন, তার (মইন) কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উপস্থিত লোকজন ইয়াবা দেখতে চাইলে তারা দেখাতে পারেননি।

ওই ব্যক্তিরা বলেন, সেখানে হট্টগোল বাধলে পুলিশের একজন মোবাইল ফোনে অপর প্রান্তে থাকা অন্যজনকে বলেন, ‘তাড়াতাড়ি মাল নিয়া আয়।’ এর পরই একটি মোটরসাইকেলে আরও দু’জন পুলিশ আসে। তারা আসার পরই ঝোপঝাড়ের মধ্য থেকে একটি সিগারেটের প্যাকেট তুলে সবাইকে দেখিয়ে বলতে থাকেন, এই যে- ইয়াবা পাওয়া গেছে।

মইনের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ছেলের চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে ছুটে আসার পর পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে এসআই এনামুল বলেন, ‘তোরে লাথি মাইরা দশ হাত দূরে ফালামু।’ তার সামনেই ছেলেকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়।

দিয়াপাড়া ইউনাইটেড মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা চৌধুরী ডলি বলেন, মইন তার স্কুল থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। নিরীহ ছেলেটিকে আটক করে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি দাবিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করা হবে।

এদিকে ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মাস্টার জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন শনিবার দুপুরে বিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোকতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মইনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়ে নালিশ করেন। উপকমিশনার মোকতার হোসেন সেদিন রাতে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুপুরে বিমানবন্দর থানার ওসি এসএম জাহিদ উদ্দিন আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য নেন। তবে কিশোর মইনকে থানায় নিয়ে নির্যাতন বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15