শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

রায় হলে অং সান সুচিকে গ্রেফতারে বাধ্য হবে সব দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৭৯
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, মিয়ানমার আইসিসি বা আইসিজে’র সদস্য হোক বা না হোক; বিচারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চিসহ ঊর্ধ্বতন ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রায় হলে তা মানতে বাধ্য হবে বিশ্বের সব দেশ। তারা অন্য দেশে গেলে তাদের গ্রেফতার করতে বাধ্য হবে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশ হওয়ার পর মিয়ানমার ছাড়াও অনেক দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের অনেক দেশে নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাকে বড় করে দেখেছেন তাই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হতেই হবে। তবে রাতারাতি এ সংকটের সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চিকে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে

গোলটেবিল বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল বলেন, একদিনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। প্রতি বছর ৫০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্মাচ্ছে। ৩০ হাজার নারী গর্ভবতী। এটি বাড়তে থাকলে কী হবে?

রোহিঙ্গাদের শুধু মিয়ানমার নয়, অন্য দেশে নেওয়ার আহ্বান জানান শাহ্ কামাল। প্রতিটি দেশ ৯ হাজার করে রোহিঙ্গা নিলে সমস্যা শেষ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মিয়ানমারকে আমরা মোটেই চিনি না, তারা খুব কঠিন প্রকৃতির। তাদের ওপর এ ধরনের চাপ কোনো কাজেই লাগবে না। আমরা একটি ভিকটিম রাষ্ট্র হিসাবেও নিজেদের জানাতে পারছি না। আমরা তাদের ওপর চাপ তো দূরে থাক, পচা পেঁয়াজ কিনতে মিয়ানমার দৌড়াচ্ছি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রচারে রোহিঙ্গাদের ভয়েস সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য রোহিঙ্গাদের সরাসরি যুক্ত করতে হবে। রোহিঙ্গারা বললে বিশ্বে যতটা নাড়া দেবে ততটা বাংলাদেশ বললে হবে না।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতায় আনার বিষয়ে গাম্বিয়া আইসিসিতে মামলা করেছে। আর্জেন্টিনার কিছু মানবাধিকার কর্মী অং সান সু চির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অন্যদিকে যতক্ষণ পর্যন্ত চীনকে আমরা আমাদের পক্ষে আনতে না পারব ততক্ষণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন হবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আইসিসি তদন্ত করার অনুমতি দিয়েছে। মিয়ানমার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়া ও চীন মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন একটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। চীন তার স্বার্থ যতদিন দেখবে ততদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অপেক্ষাই করতে হবে। ভারতের কিছু রাজনীতিক আমাকে বলেছেন—ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা সার্বভৌমত্বকেও ছাড় দেয়, যা বাংলাদেশের সঙ্গে হয়ে ওঠেনি। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা দরকার।

মেজর (অব.) এমদাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত—এ তিন দেশই মিয়ানমারের সঙ্গে বেশ কিছু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত। চীন সবসময় জাতিসংঘে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে।

বৈঠকে উখিয়ার চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, এবারের মতো এত বড় রোহিঙ্গা সংকট আগে মোকাবিলা করতে হয়নি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, পরিবেশগত সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে রোহিঙ্গা নামে একটি ‘টাইম বোমা’ রাখা হয়েছে। তা বিস্ফোরণ হলে গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। চীন ও ভারত না চাইলে এ সংকটের সমাধান হবে না।

অভিবাসী বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ঢালাওভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে সবাইকে এক করে ফেলা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে যারা অর্থনৈতিক সহায়তা করে থাকে তারা যতটা মানবিক কারণে করে থাকে ততটা রাজনৈতিক বিষয়ে শীতলতা দেখায়।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির, সঞ্চালনা করেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15