মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে চাপ দেবে চীন

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮০
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দ্রুত করতে চীনের পক্ষে যা করা সম্ভব তাই করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ও মিয়ানমারের সাথে ঐতিহ্যগত যে বন্ধুত্ব চীনের রয়েছে, তাতে করে ‘সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ (বিষয় হলো) চীনের ভূমিকা। প্রত্যাবাসনকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চীন আগ্রহী।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শান্তিপূর্ণভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খোঁজা’ শীর্ষক এক সেমিনারে চীনের রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত তিন দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সিদ্ধান্ত’ নেয়া হয়।

তিনটি বিষয়ের প্রথমটি হলো-এটা তিনটি দেশের রাজনৈতিক ইচ্ছা ও সম্মতি যে যত দ্রত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের রাজনৈতিক নির্দেশনায় প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়গুলোর সন্ধানে একটি যৌথ কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তৃতীয়ত, উন্নয়নই হলো উন্নতির মৌলিক সমাধান এবং চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করতে হবে যাতে এ এলাকায় স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়।

রাষ্ট্রদূত জানান, স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ায় ইয়িও ঘোষণা দিয়েছেন যে কক্সবাজারে প্রয়োজনীয় লোকদের সহায়তায় চীন একটি মেডিকেল টিম পাঠাবে এবং দাতব্য সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি-মিয়ানমার উইং) ও চীনের রাষ্ট্রদূত গত দুমাস ধরে একে অপরের সাথে আলোচনা করে আসছেন।

খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন অভিন্ন ইস্যু খুঁজে পেয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গা, হিন্দু রোহিঙ্গা এবং ‘শূন্য রেখায়’ বসবাসকারীরা দ্রুত প্রত্যাবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন; মিয়ানমার তাদের বাস্তুচ্যুত লোকদের সাথে মুখোমুখি কথা বলে তাদের বিশ্বাস বাড়াতে আরও বেশি বেশি যুক্ত থাকবে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এনভিসিতে ব্যবহৃত শব্দবন্ধ পরিবর্তনে সম্মত হয়েছে; বাংলাদেশ কক্সবাজারে আরও সম্পদ ও জনশক্তি নিযুক্তিতে এবং প্রত্যাবাসন সম্পর্কে আরও বাস্তববাদী পদ্ধতি অবলম্বনে সম্মত হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে টেকসই সমাধানে চীন অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি বাক্যে বলতে গেলে, এভাবে বলা যায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন উদ্বেগ প্রকাশ করে, চীন অবদান রাখে এবং চীন কাজ করে।

চীনের উদ্বেগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি চীন ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15