মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ শিকার কারখানাকর্মী

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬১

কারখানা ছুটি শেষে বাসায় ফেরার পথে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে চারজন মিলে ধর্ষণ করেছে। পুলিশ এক ধর্ষক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মিদ্দাপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নগর পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী কমিশনার পরিত্রাণ তালুকদার  বলেন, ‘কারখানা ছুটি শেষে তরুণী তার এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। রাস্তায় চার বখাটে মিলে সহকর্মীকে মারধর করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। এর পর সেখানে চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। পরে খবর পেয়ে আমরা এক ধর্ষকসহ দুজনকে গ্রেফতার করি।’

ধর্ষণের শিকার তরুণী বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় একটি কনডেন্সড মিল্ক কারখানায় চাকরি করেন।

ধর্ষণে অভিযুক্ত চারজন হল- জানে আলম, মো. আলমগীর, মো. ইউনূস ও বাবু। ধর্ষণে সহায়তাকারী যুবকের নাম মো. জুয়েল। ধর্ষকদের বয়স ২৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার।

ওসি প্রিটন  জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কারখানা থেকে বেরিয়ে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে দাঁড়িয়ে তরুণী ও তার পুরুষ সহকর্মী কথা বলছিলেন। এ সময় আলমগীর ও ইউনূছ গিয়ে দুজনের পরিচয় জানতে চায়। তারা সহকর্মী বললে রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার কারণ জানতে চায়। এ সময় দুজনকে জোর করে রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রিটন আরও জানান, এ সময় পুরুষ সহকর্মী প্রতিবাদ করলে আলমগীর তাকে থাপ্পড় দেয়। এক পর্যায়ে বাবু ও জানে আলম এগিয়ে আসেন। আলমগীর, বাবু ও ইউনূস মিলে তাকে মারধর শুরু করলে তরুণী রাস্তার দিকে হাঁটা শুরু করেন। তখন জানে আলম তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তুলে মিদ্দাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। পরে বাকি তিনজনও সেখানে যায়। এর পর চারজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ওসি বলেন, ‘ধর্ষণের এক পর্যায়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে ওই তরুণীকে তাদের বন্ধু জুয়েলের মিনিবাসে তুলে দেয়। জুয়েল ও জানে আলম মিলে ওই বাসে করে তরুণীকে আমিন জুট মিল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি টি স্টলে তরুণীকে বসিয়ে তারা চায়ের অর্ডার দেয় তারা। তখন তরুণী কান্না শুরু করে। টহল পুলিশ সেটা দেখে জানে আলম ও জুয়েলকে আটক করে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার পরিত্রাণ তালুকদার জানান, রাতেই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এর পর ওই তরুণী পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জানে আলম ও জুয়েল মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15