বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

প্রেমিকার সঙ্গে হোটেলে রাত কাটাতে গিয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৯১
নিহত সোহরাব হোসেন সিকদারের মরদেহ ও তার প্রেমিকা (ছবি : সংগৃহীত)

বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে প্রেমিকার (২৮) সঙ্গে রাত কাটাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে সোহরাব হোসেন সিকদার (৪৫) নামে সাবেক এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত সোহরাব হোসেন সিকদার বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলী সিকদারের ছেলে। তিনি টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে সোহরাব হোসেনের মৃত্যু হয়। পরে লাশ উদ্ধারের সময় তার পকেটে যৌন উত্তেজক ওষুধ পায় পুলিশ। ফলে পুলিশ ও চিকিৎসকদের ধারণা, যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করায় অতিমাত্রায় উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সোহরাব হোসেন সিকদার মারা গেছেন।

এ দিকে, নগরীর পোর্ট রোডস্থ আবাসিক হোটেল ‘গ্রান্ড প্লাজার’ একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে সোহরাব ওই হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এ সময় হোটেল রেজিস্টারে তিনি ওই নারীকে তার স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ সোহরাব অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাতেই ওই নারীসহ হোটেলের লোকজন তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সোহরাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালে দায়িত্বরত কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক নাজমুল হুদা জানান, চিকিৎসক সোহরাবকে মৃত ঘোষণার পরপরই ওই নারী সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাকে ডেকে সোহরাব হোসেন তার কী হয়- জানতে চাওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, সোহরাব হোসেনের শ্যালকের স্ত্রীর বান্ধবী তিনি। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে মুঠোফোনে তাদের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয়। সোহরাব হোসেন বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক জেনেও তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

উপপরিদর্শক নাজমুল হুদা বলেন, ওই নারী আরও জানিয়েছেন, সোহরাব তাকে বিয়ে করেছিলেন। তবে, বিয়ে রেজিস্ট্রি না হওয়ায় বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই।

লাশ উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদ  জানান, ‘মৃত্যুর পর সোহরাব হোসেনের পকেটে যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া গেছে। এছাড়া চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করায় অতিমাত্রায় উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে, লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও সে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15