মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিদ্যালয়ে না এসেই বেতন নেন প্রধান শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৬৫
ছবি : সংগৃহীত

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার আরো একটি পরিচয় আছে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির আপন ভাই। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত খাতায় স্বাক্ষর দেখিয়ে বিল ভাতা উঠিয়ে নিচ্ছেন।এ অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভা দক্ষিণ ফ্যাশন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে ইউএন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার স্কুল পরিদর্শনের সময় তাকে বিদ্যালয়ে পাননি।

১৯৯৩ সনে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ১৯৯৮ সনে এমপিওভূক্ত হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৯ জন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর। ২০০৭ সালে প্রধান শিক্ষকের আপন ছোট ভাই মাহাবুবুর রহমান স্বপনকে সভাপতি করে তিন বছরের জন্য ম্যানেজিং কমিটির গঠন করা হয়। ছোটভাই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এরফান হাসান মফিজ বরিশাল গিয়ে হাজিরা খাতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসা ছুটি নিয়ে প্রধান শিক্ষক মনজুর হোসেন পরিবারসহ বরিশাল অবস্থান করছেন।

পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান মনজু অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি চাকুরিবিধি লঙ্ঘন করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি বেতন ভাতা উঠিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট স্কুলের বিল ভাতা প্রদেয় রূপালী ব্যাংক জিন্নাগড় শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, বিল ভাতা উঠানো নিয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে তার স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগ আগে আমার জানা ছিল না। সর্বশেষ অক্টোবরে ২৪ হাজার ৩৪০ টাকা তার হিসাব নম্বর থেকে উঠানো হয়েছে। আগাম মাসিক বিল জমা নেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও মো. রুহুল আমিন চলতি বছরে ২৫ সেপ্টেম্বর অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই স্কুল পরিদর্শনের সময় প্রধান শিক্ষক কাজী মনজুর হোসেনকে অনুপস্থিত পেয়ে তার বেতন ভাতা কর্তনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করেছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক মিলন প্রধান শিক্ষকের বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্কুল পরিদর্শনের সময়ও প্রধান শিক্ষককের হাজিরা খাতায় পাঁচ দিন অনুপস্থিত পেয়েছেন।

এসব বিষয়ে ইউএনও মো. রুহুল আমিন জানান, প্রধান শিক্ষকের কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিতি ও অনিয়মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিতি ও অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রধান শিক্ষক মনজুর হোসেন বলেন, পরিবার পরিজনসহ বরিশালে অবস্থানের কারণে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হতে পারি না। তবে এ যাবত বিল বেতনসহ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে স্বাক্ষর তার নিজের বলে স্বীকার করেন। প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে কোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেননি। বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির অভিযোগ সত্য নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15