বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা সংকট জটিল হচ্ছে, প্রত্যাবাসনও বিলম্বিত হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৩০
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আঞ্চলিক শক্তিধর চীনের মধ্যস্থতাও কোনো কাজে আসছে না। চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিদেশীয় যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, মিয়ানমারের অনাগ্রহে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মামলা দায়েরের পর মিয়ানমার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অপপ্রচারে নেমেছে। এই অপপ্রচার মোকাবিলা এখন কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মামলার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারের অপকৌশল আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তিন দেশ মিলে মাঠপর্যায়ে একটি কমিটি হবে এবং তারা প্রত্যাবাসন জটিলতা নিরসনে কাজ করবে। পরে মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক, চীন ও মিয়ানমারের দূত এ তিনজন নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। তাদের মধ্যে এক দফা আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে গত মাসের শুরুতেই তাদের ফের বৈঠকে বসার কথা ছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই বৈঠক আয়োজনে প্রস্তুতির কথা চীনের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মিয়ানমারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তা হয়নি মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে। তারা এখনো বৈঠকে বসতে সম্মতিও দেয়নি। জানা যায়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে গাম্বিয়ার মামলা এবং আর্জেন্টিনার মানবাধিকার কর্মীদের অন্য একটি মামলার পর মিয়ানমার ব্যাপকভাবে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের কৌশল নিয়েছে। ১৫ নভেম্বর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করেনি এবং দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেনি। ওই মুখপাত্র আন্তর্জাতিক আদালতে রাখাইনে গণহত্যা বিচারের মামলার জন্যও কঠোর সমালোচনা করেন

রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে নানামুখী রাজনীতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দায়ী করেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এবং পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অসহযোগিতা করছে, চুক্তির শর্ত মানছে না- এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে নেপিদোতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমেও বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আইসিজেতে গাম্বিয়ার মামলার পর মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছে। কারণ হেগের এই আদালত থেকে গণহত্যার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে রায় দিলে তা সব সদস্যরাষ্ট্রকে মানতে হবে। এর ফলে আদালতের রায়ে গণহত্যার জন্য কেউ চিহ্নিত হলে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের রায় হলে ওই ব্যক্তিরা সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। আইসিজের কোনো সদস্যরাষ্ট্রে ভ্রমণে গেলেই তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমারের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ব্রিফিং এবং সৌজন্য বৈঠকের মাধ্যমে মিয়ানমারের অপপ্রচারের জবাব তুলে ধরা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অপপ্রচার মোকাবিলায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের কাছে প্রচার চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের অপপ্রচার মিয়ানমারের জন্য খুব বেশি লাভজনক হবে না। কারণ রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনী কী ধরনের গণহত্যা চালিয়েছে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করতে কী ধরনের অপকৌশল নিয়েছে, সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট। তবে মিয়ানমারের অপপ্রচারের কারণেই বরং রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হচ্ছে এবং প্রত্যাবাসনও বিলম্বিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরিবর্তে এখন অপপ্রচার মোকাবিলার কূটনীতিতেই বেশি জোর দিতে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15