বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

জিনের বাদশা নিল ২৫ লাখ, ফতুর শাহিনা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৭৩
সিআইডির সংবাদ সম্মেলন

শাহিনা আক্তার। চাকরি করতেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। হজে যাবেন বলে ১০-১২ লাখ টাকা ব্যাংকে রেখেছিলেন। আরও মোটা অঙ্কের এফডিআর ছিল। বিন্তু একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে ফতুর হয়েছেন তিনি। এ নারী সরল বিশ্বাসে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন ‘জিনের বাদশাকে’। তিনি তাদের আরও টাকা চেয়েছিলেন।

পরে শাহিনা আক্তার প্রতারণা বুঝতে পেরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডির একটি টিম ভোলা থেকে ‘জিনের বাদশার’ ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির প্রধান মোস্তফা কামাল।

গ্রেফতাররা হলেন— মো. সুমন ফকির (২০), মো. মুনসুর আহমেদ (২৫), মো. হাছনাইন ফকির (২০), মো. হাবিবুল্লাহ (৩২), মো. লোকমান ভূইয়া কাজী (২৭), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩৪) (বিকাশ এজেন্ট) ও মো. ফজর আলী জোমাদার বাড়ি (৩৬)।

বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তার একটি মাধ্যমে ‘জিনের বাদশার’ মুঠোফোন নম্বর পান। ওই নম্বরে কল দিলে সব সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা বলা হয়। এ নারী ওই নম্বরে ফোন করেন। ফোনে তাকে বলা হয়, সেবা নেওয়ার আগে ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তিনি তাদের কথা মতো রেজিস্ট্রেশন করেন। পরে ‘জিনের বাদশা’ মুঠোফোনে ভুক্তভোগীর এক একটি সমস্যার কথা শুনেন এবং প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।

তিনি বলেন, টাকা দাবির পর ভুক্তভোগীকে ৭টি বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়। ৭টি নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ৩ মাসে ওই নারী ২৫ লাখ টাকা লেনদেন করেন। ২৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর আরও টাকা চাওয়া হয়। পরে শাহিনা পাশের বাসায় পরিচিত একজনের কাছে টাকা ধার চান। এক পর্যায়ে বিষয়টি ওই নারীর ছেলে জানতে পারেন। এরপর হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়। এ মামলা তদন্ত করে ভোলায় প্রতারক ‘জ্বীনের বাদশার’ সন্ধায় পাওয়া যায় এবং তারা গ্রেফতার হন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সাতজন ২৫ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলেছে। প্রতারকরা গত তিন-চার মাস ‘জিনের বাদশা’ সেজে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি তাদের চক্রে কয়েকজন বড় ভাই রয়েছেন। তাদেরও গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হবে। বিকাশ স্ট্যাটমেন্ট নেওয়া হয়েছে। এ নারী ছাড়াও আরও ৪-৫ জনের টাকা নেওয়ার তথ্য মিলেছে।

এটা বড় ধরনের লেনদেন, এর সঙ্গে বিকাশের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না, এমন প্রশ্নে সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে একজন বিকাশ এজেন্টের লোকও আছে। মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হওয়ায় বিকাশ তাদের দায় দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এর বাইরেও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15