শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:২১ অপরাহ্ন

রায়ের দিকে তাকিয়ে রোহিঙ্গারা !

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৭০
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী (ছবি : সংগৃহীত)

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শুরু হয়। শেষ দিনের শুনানিতে প্রথমে মামলার বাদী গাম্বিয়া, পরে মিয়ানমার তাদের স্ব স্ব যুক্তি তুলে ধরেন। তবে তিন দিনের এই শুনানি শেষে কি হতে যাচ্ছে সেদিকে তাকিয়ে আছে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা।

এ দিকে, ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরা, তাদের ওপর বর্বরতার শাস্তি নিশ্চিত করা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। কেউ কেউ বলছেন আজ (বৃহস্পতিবার) মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির কারণে একটা বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখন শরণার্থী।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফে সারা দিন বিদুৎ না থাকায় বেশির ভাগ রোহিঙ্গারা হেগের খবর জানতে মোবাইল ও রেডিও নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় টেকনাফের জাদিমুরা নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের মংডু থেকে পালিয়ে আসা মোহাম্মদ করিম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা রোহিঙ্গা একটি চায়ের দোকানে হতাশা নিয়ে বসেছিল। তিনি হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকের বাসিন্দা।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরদের গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গেছে এজন্য গাম্বিয়া ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেসব দেশ সহায়তা প্রদান করেছে তাদের ধন্যবাদ জানায়। কিন্তু বাংলাদেশের বোঝা হয়ে বিশাল আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে থামবে তা এখানো কেউ জানি না। দিন দিন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ছে, তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে? এসব নিয়ে আমরা অনেক চিন্তার মধ্যে জীবন যাপন করছি।’

এ সময় বদি আলম (৬৮) নামে এক ব্যক্তি দাবি করে বলেন, ‘মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি যখন গৃহবন্দি ছিলেন তখন রোহিঙ্গারা ‘যুদ্ধের’ মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে। কিন্তু বের হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাছাড়া গাম্বিয়ার করা মামলায় আদালতেও সু চি মিথ্যা কথা বলেছে। এটি হচ্ছে তার আসল চেহারা। সু চির কারণে রোহিঙ্গারা এখন শরণার্থী। আমরা আসলে কেউ শরণার্থী হয়ে থাকতে চাই না। নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত। শুধু মিয়ানমারে অন্য জনগোষ্ঠী যেভাবে জীবন যাপন করতে চায় সেই টুকু চাই। এটা আমাদের অধিকার, এই অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফেরত যেতে চাই। আসলে আমাদের ভবিষ্যৎ কি হচ্ছে তা এখনো অজানা।’

বাংলাদেশ-মিয়ানমার ঘুমধুম শূন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন,‘রাখাইনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সহিংসতার গুরুতর যেসব অভিযোগ উঠেছে শুনানিতে তারা সেগুলো অস্বীকার করার চেষ্টাও করেননি। এছাড়া ২০১৭ সালে নির্মূল অভিযান শুরুর পর গণহারে রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করার চেষ্টা করেননি। এতে বুঝা যায় তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হেগে শুনানি চলে। সেখানে গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের ছয়টি দাবি তুলে ধরেছেন। এখন দেখা যাক কি হয়। তবে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ, কোন দিকে যাচ্ছে সেটি নিয়ে আমরা চিন্তিত। বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এর প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছায়। এ সময় নাগরিকত্ব ছাড়া মিয়ানমার অন্য সব দাবি মেনে নিলে তারা ফিরবে কি না এমন প্রশ্নে, রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পেলেই কেবল ফিরতে রাজি বলে জানান তারা।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা মুঠোফোনে জানান, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে বাংলাদেশ বহুমুখী সংকটের মধ্যে পরতে পারে। তাই কৌশলে এই সমাধান প্রয়োজন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15