সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর উখিয়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের দৌঁড়ঝাপ

আতিকুর রহমান মানিক,কক্সবাজার ::
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১২৭

উখিয়া বালুখালী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট চেকপোস্টে চাঁদাবাজি ও হয়রাণির সংবাদ স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন গুলোতে  প্রকাশের পর তোলপাড় চলছে। সেখানকার দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তারা এনিয়ে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া বালুখালী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট চেকপোস্টে লাগামহীন চাঁদাবাজি বিষয়ে গত মঙ্গলবার উক্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। বস্তুনিষ্ঠ উক্ত সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসন। কাষ্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট, কক্সবাজার বিভাগের সহকারী কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা নু চ প্রু বলেছেন, উপরোক্ত বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এরপর দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাব উদ্দীন ও তার সিন্ডিকেটের। ভূক্তভোগীরা জানান, উক্ত চেকপোস্টে ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন সর্বস্তরের জনসাধারন। কক্সবাজার- টেকনাফ সড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাক, পিক আপ ও বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিভিন্ন বাহানায় নিয়মিত টাকা আদায়
করে আসছেন চেকপোস্টে দায়িত্বরত সরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। আর এসব চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করছেন রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাব উদ্দীন।

প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ সারাদেশ থেকে টেকনাফগামী পণ্যবাহী ট্রাক, মিনিট্রাক ও পিকআপ চেকপোস্টে আটকে রেখে অনৈতিক চাঁদা আদায় করে আসছে সেখানে কর্রমত শাহাব উদ্দীন ও মানিক মজুমদার। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ঘন্টার পর ঘন্টা পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখে। ফলে অবশেষে বাধ্য হয়েই তাদের দাবীকৃত অংকের টাকা আদায় করেন ড্রাইভারগন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি ট্রাক তরকারী ও সবজি টেকনাফে সরবরাহ করতে বালুখালী কাস্টমস চেকপোস্টে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হয়। না হলে ভ্যাট আইনে মামলা দেয়ার ভয় দেখায় তারা। ফলে পরিবহন খরচ বেশী হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে খুঁচরা বাজারে। বেগুন, আলু, মুলা, ফুলকপি-বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবজির উপর ভ্যাট দেয়া বাধ্যতামূলক কিনা প্রশ্ন করেন ট্রাক চালক আমিনুল।

তিনি আরো বলেন, এসব ঠুনকো অজুহাতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাব উদ্দীন ও তার দলবল। কম্বল ব্যবসায়ী মাহবুব আলম জানান, গত ২ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোড থেকে ৯০ পিস কম্বল পাইকারী কিনে টেকনাফে সরবরাহ করছিলেন। দুপুর তিনটায় কম্বলবাহী পিকআপ চেকপোস্টে পৌঁছলে শাহাব উদ্দীন ও মানিক মজুমদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও সিপাহী মিলে গাড়ীটি আটকে রাখে। তখন কম্বল ক্রয়ের ক্যাশমেমো দেখালেও ভ্যাট আদায় করেছেন কিনা জানতে চায় তারা।

ভূক্তভোগী মাহবুব আরো বলেন, কম্বল থেকে ভ্যাট আদায় করার নিয়ম নেই বললে তারা মারমুুুুখী আচরন করে ও শেষে তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিয়ে গাড়ী ছাড়িয়ে নিতে হয়। মিনিট্রাক চালক শুক্কুর বলেন, কিছুদিন আগে ট্রিপ নিয়ে টেকনাফ যাওয়ার সময় যাথারীতি চেকপোস্টের লোকজন চাঁদা দাবী করে। কিন্তু টাকা না দিয়ে কৌশলে গাড়ি নিয়ে চলে যান তিনি। কিন্তু ফিরতি পথে টেকনাফ থেকে আসার সময় চেকপোস্টে পুনরায় গাড়ীটি আটকিয়ে রাখে ও আগের চেয়ে দ্বিগুন চাঁদা আদায় করেন।

টেকনাফগামী মুদিপন্যবাহী ট্রাক, জ্বালানী তেলবাহী গাড়ী, ঔষধবাহী গাড়ী, কাপড়ের গাড়ী এমনকি যাত্রীবাহী বিভিন্ন গাড়ী থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে এরা। প্রতিদিন এভাবেই লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজিতে নেমেছে বালুখালী কাস্টমস চেকপোস্টে কর্মরতরা। আর এ সুযোগে টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা নিষিদ্ধ পণ্যবাহী গাড়ীগুলো পার পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপরোক্ত সব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোন কথা বলতে চাননি অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাব উদ্দীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15