সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:২৫ অপরাহ্ন

স্বামীকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কার্যালয়ে আটকে পোশাককর্মীকে ধর্ষণ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৪৭
মো. জনি দেওয়ান ও মো. আতিক দেওয়ান

রাজধানীতে কাফরুলের ইমাননগরে থার্টিফার্স্ট নাইটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কার্যালয়ে স্বামীকে আটকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এক পোশাককর্মীকে (২৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির দুই কর্মী ছাড়াও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তিনজন হলেনÑ জনি দেওয়ান ওরফে মুরগি জনি, আতিক দেওয়ান ও জাহাঙ্গীর আলম। প্রথম দুজন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী।

গত শনিবার রাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। অন্যদিকে গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বাদী আমাদের সময়কে জানান, তার স্বামী নির্মাণশ্রমিক, থাকেন ইমাননগরে। থার্টিফার্স্ট নাইটে তারা বেড়াতে বের হন। ভোর ৪টার দিকে নাশতা করতে মিরপুর-১৩ নম্বরের ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে যান। সেখানে কোনো হোটেল/রেস্তোরাঁ খোলা না পেয়ে জব্বারের চিপা নামের একটি গলি ধরে হাঁটছিলেন তারা। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী মুরগি জনি ও আতিক দেওয়ান তাদের পথ আটকে প্রশ্ন করেন, এত রাতে রাস্তায় কেন? তখন তার স্বামী জানতে চান, রাতে হাঁটা নিষেধ কিনা? এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জনি ও আতিক। স্বামী-স্ত্রীকে এক প্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান পাশের স্বেচ্ছাসেবক লীগ কার্যালয়ে। সেখানে তার স্বামীকে বেদম মারধর করা হয়; জানতে চাওয়া হয়, তাদের বিয়ের কাবিননামা আছে কিনা। তরুণী জানান, সঙ্গে নেই, বাসায় আছে। মুরগি জনি তখন তার স্বামীকে সেখানে আটকে রেখে তরুণীর সঙ্গে তাদের বাসার দিকে রওনা হন কাবিননামা দেখার জন্য। সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর আলমও। তরুণী বাসায় তাদের কক্ষে প্রবেশ করতেই জনিও প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এর পর তরুণীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তিনি চিৎকার করেন। জনি তখন ওই তরুণীকে হুমকি দেন, রাজি না হয়ে চিৎকার করলে ক্লাবে বেঁধে রেখে আসা তার স্বামীকে হত্যা করা হবে। তিনি তখন স্বামীকে বাঁচাতে জনির লালসার শিকার হতে বাধ্য হন। পরে ওই তরুণীকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কার্যালয়ে ফেরেন জনি। এর পর একটি সাদা কাগজে ওই দম্পতির স্বাক্ষর রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15