শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

উখিয়ার বাদশার অল্প সময়ে গল্পের মতো বাড়ী ! রহস্য কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৮৯

উখিয়া উপজেলায় হঠাৎ যে কয়জন ব্যক্তি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম টমটম বাদশা।
উপজেলার ঘিলাতলী গ্রামের এই ব্যক্তি ৩ বছরের ব্যবধানে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে। পুরো নাম নাছির উদ্দিন বাদশা। পরিচিতি পেয়েছেন টমটম বাদশা হিসেবে। ৩ বছর পূর্বে যে বাদশার শুধুমাত্র একটি পানের দোকান ছিল সে বাদশা আজ কোটি টাকার মালিক। কি সেই রহস্য!

উখিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বাদশার নির্মানাধীন ৫ তলা বাড়ী

জানা যায়,উখিয়া উপজেলার ঘিলাতলী গ্রামের ফরিদুল আলমের পুত্র নাছির উদ্দিন বাদশা ৩ বছর পূর্বে উখিয়া ষ্টেশনের দক্ষিণে ছোট্র একটি চানা পিয়াজু সহ পানের দোকান নিয়ে কোন রকমে দিনানিপাত করতো। কিন্ত ৩ বছরের ব্যবধানে সেই বাদশা আজ কোটি টাকার মালিক। উখিয়া ষ্টেশনে টমটমের কয়েকটি শো,রুম ছাড়াও কোটবাজার, মরিচ্যা রামু ও লিংরোডে রয়েছে তার শো রুম। স্ত্রী ছাড়াও নামে বেনামে উখিয়ার পূবালী ব্যাংক,সোনালি ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক সহ কক্সবাজারের বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকার এফডিআর সহ ব্যাংক ব্যালেন্স। বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে উখিয়ার আনাচে কানাচে। কিন্ত ৩ বছরে কিভাবে এত সম্পদ, কি সেই রহস্য। স্থানীয় লোকমুখে প্রচার আছে, গত ৩ বছর পূর্বে টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা একটি গাড়ী এক্সিডেন্ট বাদশার ভাগ্য বদলে দেয়।

উখিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বাদশার নির্মানাধীন ৫ তলা বাড়ী

স্থানীয়রা জানান,সে সময় গাড়ীটি বাদশার পানের দোকানের সামনে এক্সিডেন্ট করে। রাতে হওয়া উক্ত এক্সিডেন্টে গাড়ী থেকে দুটি বস্তা পড়ে যায়। বস্তা দুটি বাদশা কৌশলে সরিয়ে ফেলে। ঐ বস্তা দুটিতে ছিল বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। এখানেই ভাগ্য ফেরে বাদশার। পরে উক্ত ইয়াবা ১ বছর যাবত আস্তে আস্তে বিক্রি করে গত ২ বছর ধরে গড়ে তুলেছে বিশাল সম্পদ। পানের দোকানদার বাদশা হয়ে যায় সমাজ সেবক বাদশা। সম্প্রতি বাদশা উখিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পিছনে জমি কিনে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান করছেন ৫ তলা বাড়ী। সেখানে বিশাল এলাকা টিনের ঘেরা দিয়ে ৪র্থ তলা পর্যন্ত নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাড়ীটি দ্রুত নির্মান শেষ করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ শ্রমিক। কারন প্রথমদিকে বাড়ী নির্মানে বাদশা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। তখন সবদিক ম্যানেজ করতে বিশাল অংকের টাকা গুনতে হয় তাকে। পরে সব মহল ঠিকঠাক করার পর আবারো পুরোদমে বাড়ী নির্মান কাজ শুরু করা হয়।

এদিকে সোমবার অনুষ্টিত উখিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অল্প সময়ে যারা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে তাদের ব্যাপারে দূর্নীতি দমন কমিশন ও আয়কর বিভাগে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উখিয়ায় অল্প সময়ে যারা অস্বাভাবিক ভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের ব্যাপারে দূর্নীতি দমন কমিশন, আয়কর বিভাগ সহ সরকারের অন্যান্য দপ্তরে চিঠি প্রেরনের মাধ্যমে অসব সম্পদ শালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15