শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

রায়ে খুশি রোহিঙ্গারা চায় প্রত্যাবাসন

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া •
  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৪৫
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চলছে আন্দদের বন্যা। অধিকাংশ রোহিঙ্গাদদের মুখে ফুটেছে হাসি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশিরভাগ মসজিদে হয়েছে বিশেষ মোনাজাত।

বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)।

এ রায়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

তারা বলছেন, যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো বিচার পায়নি। এ রায় তাদের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

গাম্বিয়ার করা মামলায় ছয়টির দাবির মধ্যে চারটি তাদের পক্ষে আসায় প্রথম জয় হয়েছে তাদের। তবে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনারও দাবি জানায় তারা।

বৃহস্পতিবার বিকালে উখিয়ার কুতুপালং, ললম্বাশিয়া, মধুর ছড়া রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখা গেছে, রায়ের খবর শুনতে ছোট ছোট দোকানে রোহিঙ্গারা ভিড় করছেন।

উখিয়ার কুতুপালং-১৪ নাম্বারের বাসিন্দা ও ভয়েস রোহিঙ্গা নেতা রিদুয়ান রহমান বলেন  ‘আইসিজের দেওয়া রায়ে আমরা অনেক খুশি, এটি মাত্র শুরু। এটি বিচারের প্রথম স্বাদ। তা ছাড়া এই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কিন্তু, প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যদি সামনে আনা যেত, তাহলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু হতো।’

রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তফা বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় রোহিঙ্গারা একত্রিত হতে পারেনি। তবে ঘরে ঘরে উৎসব বিরাজ করছে।

রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ বলেন,  ‘ছয়টি দাবির মধ্যে চারটি আমাদের পক্ষে এসেছে।  তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে অং সান সু চির যুক্তি খারিজ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে সেখানে গণহত্যা হয়েছে। এ জন্য রায়ের দিন সু চি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এই থেকে সু চির লজ্জা পাওয়া উচিত। তবে প্রত্যাবাসনের বিষয় নিয়ে যদি আলোচনা করতো, তাহলে আরও ভালো হতো।’

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘আইসিজের রায়ে খুশি, এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম জয়। কেন না যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো বিচার পায়নি। এই রায়ে মনে হচ্ছে প্রথম বিচারের স্বাদ পেয়েছি।’

উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর বলেন, ‘আইসিজের ঘোষিত রায়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পে নজরদারি রাখা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15