রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০, ১১:২৩ অপরাহ্ন

পুলিশ হেফাজতে ট্রানজিট ক্যাম্পের খ্রিস্টান রোহিঙ্গারা

ইমাম খাইর, সিবিএন ::
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৫৫

গত ২৭ জানুয়ারী উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পে মুসলিম ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় ট্রানজিট ক্যাম্পের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন খ্রিস্টান রোহিঙ্গারা। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোরতায় পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। এরকম কোন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে ক্যাম্প রোহিঙ্গাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার জানান, তুচ্ছ বিষয়ে মুসলমান ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের মাঝে সৃষ্ট ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়া হয়েছে। খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের ট্রানজিট ক্যাম্পের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আর কোন সমস্যা নেই।

স্থানীয় একটি সুত্রে জানা গেছে, মুসলিম ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের মাঝে ঘটনার ইস্যুতে রুদ্ধার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পের ওই বৈঠকে সিআইসি ক্যাম্প-২ খলিলুর রহমান, সহকারী সিআইসি ক্যাম্প-২ আতাউর রহমান, ইউএনএইচসিআর এর প্রটেকশন অফিসার আরিফ, ব্র্যাকের সাইট ম্যানেজমেন্ট অফিসার মোসাঈদ হাসান, রেডক্রিসেন্ট প্রটেকশন অফিসার রতন দাস উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্প সেক্রেটারি (ক্যাম্প -২ ইস্ট) মোঃ নূর, সিরাজুল মোস্তফা (ক্যাম্প -২ ওয়েস্ট) ও মাঝিদের নিয়ে খ্রিস্টান নুরুল ফকিরের ছেলে নূর সালাম ও সেলিম এর সাথে কথা বলেন। ইতিপূর্বে সংগঠিত ঘটনাটি সম্পর্কে সবার মতামত শোনেন সিআইসি। খ্রিস্টানদের আলাদা করার জন্য মাঝিরা ওই বৈঠকে মতামত প্রদান করেন। তবে, কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিকাল তিনটার দিকে বৈঠকটি সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে সুকৌশলে খ্রিস্টান ধর্মের দাওয়াত দেওয়ার কাজ শুরু করে পুরাতন রোহিঙ্গা নুর ফকির। যারা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করে তাদের প্রতিজনকে মাসিক হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়। ইতোমধ্যে অন্তত ৮০টি অসহায় রোহিঙ্গা পরিবারকে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী বানায়। গড়ে তুলে শক্তিশালী মিশনারী সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরাতন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত পুলিশ ব্যারাকের পেছনে একটি মাটির তৈরি বাড়িতে বসবাস নুর ফকিরের। ওখানে প্রতি রাতে মদ ও গাজার আসার বসায়। ওখানে বেশ কয়েকবার অভিযানও চালায় পুলিশ। পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ইস্টে গিয়ে আশ্রয় নেয় নুর ফকির। এসব অপরাধের নেপথ্যে কারা জড়িত? তা বের করার দাবী স্থানীয়দের।
একদিকে, ধর্মান্তরিত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা অপরদিকে জুয়া ও মাদকের আড্ডা গড়ে তুলায় রোহিঙ্গা নুর ফকিরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠে সাধারণ রোহিঙ্গারা। যার রেশ ধরে ২৭ জানুয়ারীর অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম হয়।

ছৈয়দ আলম নামের এক রোহিঙ্গা অভিযোগ করে জানান, নুর ফকিরের ফাঁদে পড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করছে অনেক সাধারণ রোহিঙ্গা। তাদের সংখ্যা ২৫০ জনের বেশি হতে পারে। ক্যাম্পের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট করতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। যে কারণে বারবার ঝগড়ার সৃষ্টি হচ্ছে। খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে বসাবাসের জায়গা না দিতে দায়িত্বরত সিআইসিদের অনুরোধ জানিয়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15