বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

নারী কর্মকর্তার আঙুলের ছাপে ড. কামালের ভোট!

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৩৪

প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পরও আঙুলের ছাপ না মেলার বিড়ম্বনা শেষে এক নারী কর্মকর্তার আঙুলে নিজের ভোটটি দিতে পেরেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ভিকারুননিসা নুন স্কুল কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কাওসার-ই জাহান নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত ক্ষমতা বলে নিজের আঙুলের ছাপ দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ড. কামালের ভোটটি গ্রহণ করেছেন। ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট হলেও ভোট গ্রহণের জটিলতায় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল। বলেন, সিস্টেমটা এত জটিল, আমার ভোটটি গ্রহণেই আধঘণ্টা লাগালো। অন্যরা এত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে ভোট দেবেন কি-না? সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শুনেছি দু’ঘণ্টায় ওই কেন্দ্রের ২৬০০ ভোটারের মধ্যে এক’শ ভোটও পড়েনি। এ থেকে বুঝা যায়, ইভিএমের ওপর মানুষের আস্থা নেই। সিটি নির্বাচনের ভোট দিতে বাসা থেকে বের হন সকাল সকালই। তখন ১০টা ছুই ছুই।

কেন্দ্র বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কামাল হোসেনের ভোট তিনতলার ২ নম্বর বুথে। স্কুলে লিফট নেই, বয়সের কারণে তার এতো উপড়ে উঠা সমস্যা। তার সঙ্গে থাকা কর্মীরা একেকজন একেক পরামর্শ দিচ্ছেন।

তাকে পাঁজাকোলা করে তোলা হবে না-কী তিনি হেঁটে ওঠবেন। ড. কামালের চোখে-মুখে তখন বিরক্তিকর ছাপ। সহযোগীদের কাঁধে হাত রেখে লাঠিতে ভর করে তিনি সিড়ি ভাঙ্গতে শুরু করলেন। অপেক্ষায় থাকা ফটো সংবাদিকদের ক্যামেরা তাকে ফলো করছে। কোন মতে এক তলা ওঠে আর দাঁড়াতে পারলেন না। বসার জন্য কেউ একজন একটি বেঞ্চ এগিয়ে দিলো। সিঁড়ির গোড়ায় খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে অতঃপর পৌঁছালেন তৃতীয়তলার নির্ধারিত বুথে। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত কামালকে ভোট কর্মকর্তারা আগে বসতে দিলেন। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো তার ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া।

শুরুতেই হোঁচট খেলেন তার আঙুলের ছাপ না মেলায়। একে একে সব আঙ্গুল দিয়েই মেলানোর চেষ্টা হলো। কিন্তু না কোনটাই মিললো না। ইভিএমে (কন্ট্রোল ইউনিট) ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললে ভোট হবে না। কি করা বিব্রত ভোট গ্রহণের দাায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নানাভাবে চেষ্টা করছেন তারা। এক কর্মকর্তা নিজের পাঞ্জাবির কাপড় দিয়ে আঙ্গুল মুছে দিয়ে চেষ্টা করলেন। কিন্তু না, কোন কিছুই কাজ হলো না। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কাউসার-ই-জাহান, যিনি ওই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত তার কপালে তো রীতিমত ভাঁজ। কিভাবে ভোটটি গ্রহণ করবেন তিনি? এই চিন্তায় তখন অস্থির। ড. কামালের স্মার্ট কার্ড মেশিন থেকে বের করে হাতে নিলেন। এবার ম্যানুয়ালি তাঁর নাম্বারটি চাপলেন। ভোট কর্মকর্তা হিসাবে নিজের গোপন পিন নম্বর ব্যবহার করলেন। সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার মনিটরে কামাল হোসেনের ছবি, বয়স, ভোটার নম্বর এবং বাসার ঠিকানা ভেসে উঠলো। শনাক্ত হলো এই কক্ষেই তার ভোট। কিন্তু বাকী প্রক্রিয়া সারতে ফিঙ্গার তো লাগবেই। ফিঙ্গারও দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন কাওসার-ই জাহান। কিন্তু না, এবার তার ফিঙ্গারটি নিলো না মেশিন।

ফের ড. কামালের কাছে। দ্বিতীয় দফায় চেষ্টা শুরু হলো ড. কামালের ফিঙ্গার নেয়ার। কিন্তু না, এবারও ব্যর্থ। অবেশেষে ফের কাওসার-ই জাহান। এবার তিনি সফল হলেন। ড. কামাল সিট ছেড়ে উঠলেন এবং লাঠির ওপর ভর করে ছুটলেন গোপন কক্ষের দিকে এবং ভোটটি দিলেন। অবশ্য একদিকে বিব্রত অন্য দিকে সফল সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কাওসার-ই-জাহান ততক্ষণে ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ফেলেন। বলেন, উনার বয়স হয়েছে তো। অনেক সময় আঙুলের রেখা মশৃণ হয়ে গেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলে না। তার আঙুলের ছাপ না মিললে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে আমার নিজের পিন এবং আঙুলের ছাপে কিছু ভোট (এক শতাংশ) গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাধ্য হয়ে আমি সেটা প্রয়োগ করেছি। শেষ পর্যন্ত তাঁর ভোটটা গ্রহণ করতে পেরেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15