মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

দীনতা

আর রাজী
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৫৯

প্রথমে ভেবেছিলাম পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে, ভারত-পাকিস্তানও হতে পারে, যেখানে বাঙলা বিভাগ আছে, তার ছবি এটি। খেয়াল করে দেখি, এটি “ইউনিভার্সিটি অব বরিশাল”- এর বাঙলা বিভাগের সামনের ফলক!!

মাঝে মাঝে হতাশার আর কোনো সীমা থাকে না। কারা, কাদের সন্তান পড়তে আসেন এই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে? বাঙলাভাষা জানা মানুষই তো সবচে বেশি সংখ্যায় সেখানে পড়েন ও পড়ান। তাহলে কার সন্তানের জন্য এই ইংরেজি ফলক? এই হীনতার উত্তর কী?

মাঝে মাঝে আমার ছাত্র-শিক্ষক বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যায় না এমন নানান (যেমন ছাত্র-রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন নীতিমালা ইত্যাদি) বিষয়ে আমি কেন মন্তব্য করলাম না, তা কড়া সুরে জানতে চান। তারা হয়তো মনে করেন, আমি আত্মস্বার্থে জরুরি সময়ে চুপ থাকলাম। কিন্তু সত্যি বলতে কী, সব ক্ষেত্রেই আমার মন একই উত্তর দেয়। আর তা হচ্ছে:

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক অবস্থা এতো খারাপ যে, যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন তা আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না। – এখন এই আমার বিশ্বাস। সুতরাং বিপ্লবাত্মক কিছু না ঘটলে কারও কোনো কথা-পরামর্শ-আলাপ-আইন-বিধি-লজ্জা দেওয়া; কিছুতেই উদ্বিগ্ন হই না আমি। কেবল ভাবি, নতুন যাই করা হোক, এখন যা আছে তার চেয়ে খারাপ অবস্থা তো আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হবে না। বরং যারা উল্টা-সিধা-গাধা-ঘোড়া টাইপ যা যা কিছু চেষ্টা করছেন, তারা তা করুক, যদি কিছু হয়।

তারপরও, নিস্ফল জেনেও, মাঝে মাঝে আমি কেবল আমার আক্ষেপ রেখে যাই।

লেখক -চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক

লেখাটি লেখকের ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15