বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচার অবশ্যই হবে – আসিসি

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া •
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪৫

মোচোচোকো জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নৃশংসতার ‘বিচার অবশ্যই হবে’। তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করছি। মিয়ানমার যদি এসে সহযোগিতা না-ও করে তবুও আমাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত থাকবে এবং নৃশংসতার জন্য তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে,কোন পরিস্থিতির মুখে তারা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে, আদালতের পক্ষ থেকে সেটি খুব সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়েছেন মোচোচোকো।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেরি হলেও রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর অফিসের ডিরেক্টর ফাকিসো মোচোচোকো।তিন দিনের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোচোচোকো এ তথ্য জানান।রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। অত্যন্ত সর্তকতা ও গোপনীয়তার মধ্য বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি ফিরে যাবার প্রাক্কালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোচোচোকো এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর অফিসের ডিরেক্টর ফাকিসো মোচোচোকোসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল দুটি টিমে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প তাদের কার্যক্রম চালানোর খবর পাওয়া গেছে। মকরলি কেরোল ও জুসিট মরিসন এর টিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ICC স্টাফদের জন্য মেডিকেল ইমারজেন্সি রেসপন্স প্ল্যান তৈরির লক্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করেন বলে জানা যায়।

৯ সদস্যের অপর টিমে ফাকিসো মোচোচোকো, নিকোলা গ্যাব্রিয়েল ফ্যালেথচার,এলেন জেমস ক্লার্ক,জেন এম ও’টোল,অ্যান্ড্রে এরিভা ফুরগার,আমির জন কাসাম,এরিক ম্যাকডোনাল্ড,মিলিসিয়া পাক ও সিল্লা মুহাম্মদ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আইসিসি টিম রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরকালে রোহিঙ্গাদের যাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের কোন কথা প্রকাশ ও ছবি তোলার উপর কঠোর বারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে আইসিসির বিচারকরা মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য আইসিসি প্রসিকিউটর ফাতৌ বেনসৌদার অনুরোধ অনুমোদন করেন।রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে রোমের বিধিমালার অধীনে আইসিসি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের (ওটিপি) চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন।তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিষয়। কিন্তু রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিষয়। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেরি হলেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ থেমে যাবে না।প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক কঠোর বিদ্রোহ দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে গণধর্ষণ, হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সাত লাখের অধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তবে অতীতের বিভিন্ন সময়ের রোহিঙ্গা অবস্থান মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অবস্থান করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15