বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

টার্গেট রোহিঙ্গা যুবতী নারী, উখিয়া টেকনাফে মানবপাচার থেমে নেই !

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৬৩

সাগর পাড়ের বিস্তৃর্ণ জনপদ উখিয়া টেকনাফ মানব পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ পাচারকারী সিন্ডিকেট। তারা শুধু মানবপাচার করে ক্ষান্ত হচ্ছে না, পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের তালিকায় ভয়াবহ একটি নাম ইয়াবা। গণমাধ্যম সূত্র বলছে, কক্সবাজারে ১০১ জন তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী রয়েছে। এসব মানবপাচারকারী ক্যাম্প ভিত্তিক তাদের পদচারণা। তাদের রয়েছে অসংখ্য সোর্স। এসব সোর্সের মাধ্যমে পাচারকারী সিন্ডিকেট সুন্দরী রোহিঙ্গা যুবতী নারীদের টার্গেট করে পাচার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

১০ ফেব্রুয়ারী সোমবার টেকনাফ বঙ্গোপসাগরে ছোট ছোট পাঁচটি বোটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ১৩৮ জন রোহিঙ্গা। পরে তাদের আরেকটি বোটে তোলার পরই সেটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া বোট থেকে কোষ্টগার্ড সদস্যরা ৭১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ দাশ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখনো ৫২ জন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে।

কোস্টগার্ড সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, জীবিত উদ্ধার ৭১ জনের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, ৪৪ নারী ও তিন শিশু। মৃত অবস্থায় উদ্ধার ১৫ জনের মধ্যে তিন শিশু ও ১২ নারী ছিলেন। নিহত ১৫ জনকে টেকনাফে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম জানান, ১৩৮ জনের মধ্যে নিখোঁজ ৫২ জন। তাদের উদ্ধারে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার অভিযানকালে ওই বড় বোট থেকে দুজন দালালকে আটক করে কোস্টগার্ড। এ ব্যাপারে তাদের বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে পাঁচটা ছোট বোটে মোট ১৩৮ জন রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পরে দালাল তাদের অপর একটি বোটে তুলে নিয়ে রওনা হলে, সেটি ডুবে যায়।

১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার টেকনাফ থানা পুলিশ ও কোষ্টগার্ড সেন্টমার্টিনের কাছে অভিযান চালিয়ে ৮ জন দালালকে আটক করে এবং ১১ জন মালয়েশিয়া যাত্রীকে উদ্ধার করে। তারা সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এব্যাপারে টেকনাফ থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে ওসি প্রদীপ দাশ জানিয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুর ২ টায় মহেশখালীর কালিয়াকাটাস্থ মানবপাচারকারী মৃত মোঃ ফয়েজের বাড়ীতে অভিযান চালিয়। এসময় পুলিশ পেকুয়া উপজেলার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ফজল আহমদ (৪২ কে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হোয়ানকের মোঃ ইউনুছ (৩২), নুরুল কাদের (২৮), মোঃ ফয়েজ (৪০) সহ ৪ জন মানবপাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করে। এসময় পাচারের জন্য অপেক্ষমান মোহাম্মদ জুবায়ের (২৭), সালেহ আহমদ (২০), মনছুর আহমদ (২৭), আজিজুল হক (৩০), জিয়াউর রহমান (২১), আকতার হোসেন (২০), মনজুর রহমান (২৭) কে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘একটি মানবপাচার চক্র বাংলাদেশে বসবাসকারী কিছু রোহিঙ্গা নাগরিককে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য টেকনাফের সাবরাং এলাকায় জমায়েত করেছে। এমন খবর পেয়ে রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষামান ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন দালাল রয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গাদের স্ব স্ব ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা ৬২১টি মামলার বিচার বর্তমানে কক্সবাজার আদালতে চলছে। ২০১২ সালে আইনটি পাস হওয়ার পর গত জানুয়ারি পর্যন্ত এসব মামলা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে একটি মামলারও বিচার সম্পন্ন হয়নি। মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে এ ধরনের মামলার বিচারে আলাদা ট্রাইব্যুনালের বিধান না থাকার ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এর বিচার কার্য চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15