মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

নাইজেরিয়ায় ‘লাসসা’ আতঙ্ক ৭০ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৮৪

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই নাইজেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ‘লাসসা জ্বর’। ইতিমধ্যে এ জ্বরে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মারা গেছেন ৮ জন। আরও সাড়ে ৪শ’র বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। নাইজেরিয়ার দ্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলের (এনসিডিসি) দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

এনসিডিসি জানিয়েছে, এ বছরের মধ্য জানুয়ারি থেকে নাইজেরিয়ার তিনটি প্রদেশে লাসসা জ্বর ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো হল- অন্ডো, ডেলটা ও কাদুনা। এই তিনটি প্রদেশে এখন পর্যন্ত ১৭০৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৭২ জনের শরীরে লাসসা জ্বর শনাক্ত করা হয়েছে। তিনজন মেডিকেল কর্মীও নতুন এই ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকরা বলেছেন, ইঁদুর, মলমূত্র ও গৃহস্থালির তৈজসপত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ‘লাসসা’ ভাইরাসটি ছড়ায়। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই জ্বর প্রাণঘাতী নয়। এই জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাথাব্যথা, মুখে ঘা, মাংসপেশিতে ব্যথা ও ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়। এ ছাড়া অনেক সময় এই জ্বরে আক্রান্ত রোগীর কিডনিও অকেজো হয়ে যায়। যথাসময়ে চিকিৎসা না দিলে মৃত্যু অবধারিত হয়ে পড়ে।

লাসসা জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে ৬ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত আলাদা স্থানে রাখা হয়। কেননা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলেই অন্যদের মধ্যে রোগটি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এই রোগে আক্রান্ত হওয়ামাত্রই চিকিৎসা নিতে হবে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় মাত্র ৫টি ল্যাবরেটরি স্থাপন করে এই রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জানা যায়, ১৯৬৯ সালে উত্তর নাইজেরিয়ার লাসা শহরে প্রথম শনাক্ত করা হয় বলে এ রোগের নাম দেয়া হয়েছে লাসা। ইবোলা ও মারবার্গ ভাইরাসের গোত্রভুক্ত লাসা জ্বর।

ব্রাজিলের রহস্যময় ‘ইয়ারা’ ভাইরাস : চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে এখন সারা বিশ্বের মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখনও প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের উৎপত্তি কোথা থেকে সে রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি গবেষকরা। এর মধ্যেই রহস্যময় এক ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশ ব্রাজিলে। এর নাম ‘ইয়ারা’ ভাইরাস।

নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য সানের খবরে বলা হয়েছে, ইয়ারা ভাইরাস আগে কখনোই দেখা যায়নি। তাই এই ভাইরাসকে ঘিরে জন্ম নিয়েছে নানা প্রশ্ন। ব্রাজিলের ফেডেরাল ইউনিভার্সিটিতে এই ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা চলছে। এর সঙ্গে কীসের সম্পর্ক আছে, তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও অস্পষ্ট। আর এ কারণে জন্ম নিয়েছে আতঙ্ক। জানা গেছে, ‘ইয়ারা’ ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে এক পৌরাণিক মৎস্যকন্যার নামে। আর ভাইরাসটির ৯০ শতাংশই গবেষকদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15