বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া এগিয়ে চলছে, যুক্ত হচ্ছে পুলিশের ব্যাটালিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৫২

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা জনিত কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নিরাপত্তার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গারাও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এর মধ্য দিয়ে মানবপাচার, খুন, অপহরণ ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধ কমবে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়াও রোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের নজরদারি বৃদ্ধিসহ সর্বোপরি আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আরো একটি নতুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সংযুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ক্যাম্প গুলোর নিরাপত্তায় ১৪তম আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করছে। এনিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুটি পুলিশ ব্যাটালিয়ন এক সাথে কাজ করবে বলে সূত্র জানিয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য উখিয়া ও টেকনাফের অন্তত ১০ হাজার একর বনভূমি বরাদ্দ দেয় সরকার। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ মানবিক সাহায্য দিয়ে আসছে সরকার। এখনও এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে থাকা উক্ত ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা একের পর এক নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ইয়াবা ও মাদকপাচার, মানবপাচার, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, নারী অপহরণ, চাঁদাবাজি, আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে হত্যাকান্ডসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা। এসব অপরাধ দমনে ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪তম আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের অনুমোদন দেয়। উক্ত ব্যাটালিয়নের আওতায় ৩৫০ জন সদস্যসহ অন্তত ৯৫০ জন সদস্য কাজ করছে।

নতুন আর্মড পুলিশের আরও একটি ব্যাটালিয়ন যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশের নতুন ব্যাটালিয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনি সহায়তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কুইক রেসপন্স টিম, বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪তম ব্যাটালিয়নের সদস্যসহ ৯৫০ জন আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করছে। এরমধ্যে আর্মড পুলিশের সদস্য ৩৫০ জন, জেলা পুলিশের সদস্য ২২৫ জন ও বিভিন্ন জেলা থেকে ২৭৫ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছে। স¤প্রতি আরও একটি নতুন করে আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়ন অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়। এতে যুক্ত হচ্ছে আরও পাঁচ শতাধিক সদস্য। সব মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের পুরো ক্যাম্পগুলোতে ব্যাপক নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, থাইংখালী, বালুখালী, মধুরছড়া, পালংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া, উনচিপ্রাং, জাদিমোরা, দমদমিয়াসহ ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি মানব পাচারকারীদের শিকার হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। যে কারণে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা প্রয়োজন। এসব রোহিঙ্গাকে নিরাপত্তা দেওয়া ও নজরদারি করা কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ক্যাম্প গুলোতে কাটাঁতারের বেড়া নির্মাণের পাশাপাশি পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15