মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

‘গরুতো ঘাসও খায়, আমরা কেন খাচ্ছি না?’

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৯৩

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ প্রশ্ন করেছেন, ‘গরুতো ঘাস খায়, ঘাসেও ভিটামিন রয়েছে, তাহলে আমরা কেন ঘাস খাচ্ছি না? দেশে কি দুর্ভীক্ষ চলছে যে আমাদের কচুরিপানা খেতে হবে?

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পণামন্ত্রী মান্নান সাহেব মানুষকে কচুরিপানা খেতে উপদেশ দিয়েছেন। আমি এখানে কিছু কচুরিপানা নিয়ে এসেছিলাম, ওনাকে দিতাম।’

কচুরিপানা নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার মধ্যেই রওশন এরশাদ মঙ্গলবার সংসদে এই ইস্যু নিয়ে এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফোরামের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী হাস্যরস করে বলেন, ‘কচুরিপানা নিয়ে কিছু করা যায় কিনা, কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কোনোমতে? গরু তো খায়। গরু খেতে পারলে আমরা খেতে পারব না কেন?’

তার কথা শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই হেসে ফেলেন। পরে মন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, ‘এমনি একটা কথা বললাম।’

তার সেই হাস্যরসের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদেও কথা ওঠে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও সংসদের সমাপনী ভাষনের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে কচুরিপানা ইস্যুতেও কথা বলেন রওশন এরশাদ।

বক্তব্যে দেশের প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে এর সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। পরপর তিনটি অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮.১৫ শতাংশ। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ৮.২ শতাংশ। গত কয়েক বছরের প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী হারের সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির বেশ কিছু চলকের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘রফতানি এবং রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির হার নিম্মমুখী, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির হারও নিম্মমুখী।’

এছাড়া ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৯ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সূচকে আমরা ১৪১ টি দেশের মধ্যে ১০৫ তম এবং ২০১৮ সালের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুই ধাপ পিছিয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের এ বিষয়ে বিশেষ নজরদেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে জরুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15