শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

পাপিয়ার এক দিনের বার বিল আড়াই লাখ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৯৮

রাজধানী থেকে সম্প্রতি অর্থপাচার, জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকা ও ডলারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ৪ জন হলেন—শামীমা নুর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), পাপিয়ার পিএস শেখ তায়্যিবা (২২) ও মফিজুরের পিএস সাব্বির খন্দকার (২৯)।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে হোটেল ওয়েস্টিনের ২১ তলার প্রেসিডেন্ট রুমটি ভাড়া নেন পাপিয়া নামের এক নারী। বিগত ৩ মাসে যাবত ওই কক্ষের ভাড়া বাবদ প্রায় ৮৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। হোটেল ওয়েস্টিনের ১৯ তলায় একটি বার আছে, সেটি তিনি পুরোটাই বুক করে নিতেন। সেখানে প্রত্যেক দিন তিনি মদের বিল বাবদ আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করতেন। সব মিলিয়ে গত ৩ মাসে হোটেল কর্তৃপক্ষকে প্রায় তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছেন এই নারী।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

বুলবুল বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি একটি প্রতারক চক্র অনেক দিন ধরে অবৈধ কাজের আড়ালে অর্থপাচার, জাল টাকার ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন নানান অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত। একপর্যায় একটি চক্রকে শনাক্ত করা হয়। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে যাওয়ার সময় বহির্গমন গেট থেকে ওই চক্রের দুই সদস্য মফিজুর ও তার পিএস সাব্বিরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে দুইজন নারী পাপিয়া ও তায়্যিবাকে আটক করা হয়। এরপর তাদের নামে অর্থপাচার মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, পাপিয়া বছরে ২২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অথচ তিনি প্রতিদিন বার বিল দেন আড়াই লাখ টাকা। এই টাকার উৎস জানতে চাইলে পাপিয়া জানান, যারা হোটেলে আসতেন তাদের কাছে বয়সী তরুণী মেয়েদের পাঠানো হতো। এরপর অশ্লীল ভিডিও দৃশ্যধারণ করে ওইসব ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। আর যেসব মেয়েদের ব্যবহার করা হতো তাদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা দিত সে। এমনকি মেয়েদের অশ্লীল ছবি ধনী কাস্টমারদের মোবাইলে পাঠিয়ে তাদের লোভ দেখাতেন তিনি। এরপর ওই লোকগুলো আসলে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করা হতো।

তিনি আরও জানান, মফিজুর-পাপিয়া দুইজন স্বামী-স্ত্রী। তাদের দুজনের ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীতে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া তাদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাসাবাড়ি, গাড়ি ও প্লট আছে এবং ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা আছে। আরও তথ্য বের করতে রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2019 UkhiyaSangbad
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbaukhiyasa15